জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত দেশের উৎপাদনমুখী খাত। একদিকে অস্বাভাবিক লোডশেডিং, অন্যদিকে জেনারেটরের বাড়তি জ্বালানি খরচ-এই দুইয়ে মিলে দিশেহারা উদ্যোক্তারা।
বিশেষ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় শেডের ভেতর পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।
খামারিরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় ডিম ফোটানো ও মুরগির বাচ্চা পালনে সঠিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ফ্যান, কুলিং মেশিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রচণ্ড গরমে খামারে বাড়ছে মুরগির মৃত্যুহার। এমন অবস্থায় অস্তিত্ব সংকটে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা।
খামারিরা বলেন, প্রতিদিন এভারেজে ৫ থেকে ৭ বার কিংবা ১৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এরমধ্যে সমস্যা হচ্ছে যে একদিন বিদ্যুৎ শুধু যাওয়ার কারণে ৭০ থেকে ৮০ পিস বাচ্চা মারা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের এই পোল্ট্রি ফিড মিল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দিনের বেশিরভাগ সময় মেলে না বিদ্যুৎ। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে কমেছে তাদের উৎপাদন। এই সংকট কাটাতে দ্রুত সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার দাবি তাদের।
পোল্ট্রি ফিড মিল কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিদিন নিয়মিত ৭০০ মেট্রিক টন করে এভারেজ উৎপাদন হয়। সেক্ষেত্রে এখন আমাদের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেটা ৪৫০ টন থেকে ৫০০ টনে কমে এসেছে। নীতি-নির্ধারক যারা রয়েছেন, তাদের বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর দেয়া উচিত।
এদিকে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে উৎপাদন কমায় বেড়েছে ডিমের দাম। হালিতে ২-৪ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। এছাড়া প্রকারভেদে মুরগির দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত। পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, দেশে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ২ লাখের অধিক খামারি থাকলেও নানা সংকটে তা নেমে এসেছে ১ লাখ ৪০ হাজারে। তবে বর্তমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমাধান না হলে এই শিল্প গভীর সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, একটা হ্যাচারিতে যখন বাচ্চা প্রোডাকশন করতে হয় ২১ দিন এই ডিমগুলো হ্যাচিংয়ে রাখতে হয়। এই হ্যাচিংগুলো, হ্যাচিং মেশিনগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এখানে লাগবে। সেক্ষেত্রে জেনারেটর দিয়ে এই হ্যাচিং মেশিনগুলো লম্বা সময়ের জন্য চালিয়ে রাখা ব্যয়বহুল। সেক্ষেত্রে প্রতিটি মুরগির বাচ্চার ক্ষেত্রেও হিউজ পরিমাণ আপনার কস্টিং এখানে ইনভলভ হওয়ার সুযোগ আছে। এই সেক্টরগুলোতে যদি বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের জন্য যদি আসলে যদি ব্যাহত হয় সেক্ষেত্রে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে।
এদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ জরুরি। সংকট নিরসনে স্বল্প-মধ্যমসহ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ তাদের।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শিল্পকারখানাগুলোতে আরও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে তাদের যাওয়া যাতে করে তারা সেখান থেকে নিতে পারে। একই সাথে বাসাবাড়িতে নেট মিটারিং সিস্টেম বা শিল্পকারখানাতে নেট মিটারিং সিস্টেমগুলোকে যুক্ত করা এগুলোর মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে চেষ্টা করা। আর দীর্ঘমেয়াদে হচ্ছে হলো যে আরও বৃহৎ আকারে বড় আকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সোলার বেসড ব্যাটারি সিস্টেমস—এগুলো আনা।
দ্রুত জ্বালানি সংকট কাটাতে না পারলে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সাথে আমিষের চাহিদা পূরণেও হিমশিম খেতে হবে গ্রাহকদের।





