বছরে ১৬ থেকে ১৭ লাখ টন এলপিজির ৯৯ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত। ফলে বাজার অস্থিতিশীল হলেও হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না বিপিসির। গত জানুয়ারিতে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি তারা। মার্কিন-ইরান যুদ্ধে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গত এপ্রিল থেকে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা।
সাশ্রয়ী দামে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি করতে যাচ্ছে বিপিসি। সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসে একটা করে ভিএলজিসি, ওই যে লার্জ কার্গো যেটাকে বলে, ওইটা নিয়ে আসবো ৪৫,০০০ মেট্রিক টনের। আর এর পরবর্তীতে আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করবো এবং আমাদের টার্গেট হলো যে মাসে দুইটা নিয়ে আসা।’
আমদানি করা এলপিজি দুইভাবে বাজারজাত করা হবে। সরকারি এবং বেসরকারি এলপিজি অপারেটরদের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে জাহাজ থেকে সরাসরি গ্যাস কিনে নিবে অপারেটররা, আর তাদের স্থাপনা ও সুবিধা ব্যবহার করে বাজারজাত করবে বিপিসি।
আরও পড়ুন:
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘মংলাতেও আমাদের এই যে প্ল্যান্ট করার ফিজিবিলিটি স্টাডি হচ্ছে। এই দুই জায়গাতে আমরা এইটাকে ইউজ করবো। বেসরকারি যারা অপারেটর যারা আছেন, উনারাও খুবই উইলিং যে আমাদের থেকে এলপিজিটা নিবেন। যদি আমরা তাদের ফেসিলিটিজ ব্যবহার করি, তাহলে আমরা নিচে লিখে দেবো যে বিপণন বিপিসি। আর যদি উনারা আমাদের থেকে লাইটারেজে কিনে নেন, সেই ক্ষেত্রে উনাদের ম্যানেজমেন্টে চলবে। আর একটা অংশ আমাদের প্ল্যান্টে আসবে।’
দেশে ৩২ এলপিজি অপারেটর থাকলেও আমদানি করছে ১০-১২ টি প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট জাহাজে আমদানি করায় পরিবহন ব্যয় বেশি পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় জাহাজে এলপিজি আমদানি হলে খরচ কমবে বলে মনে করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
ফ্রেশ এলপি গ্যাস লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, ‘বাংলাদেশে যে প্রোডাক্টটা এখন আসছে সেটা আড়াই হাজার, তিন হাজার পার্সেল আসছে। অথবা চিটাগাংয়ে যদি কেউ আনলোড করে সেক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারের পার্সেল আসছে। কিন্তু এটা যদি ৪৫ হাজার মেট্রিক টনের আসে আমেরিকা থেকে, সেই ক্ষেত্রে ফ্রেট চার্জ বেশি পড়বে এটা না, এবং পারচেজ প্রাইসেও বেশি পড়বে সেটাও না। সুতরাং বর্তমানে যে প্রাইস আছে, এর চেয়ে বরং কম মূল্যে সরকারের দিতে পারা উচিত।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি শুরু হলে উৎস বহুমুখী এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে- যা বাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। মে মাসে দুই দেশ ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি, এলপিজিসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।




