বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইন্সটিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বিএফটিআইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ নেই। বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে পারলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।’
আরও পড়ুন:
গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ক্রমেই সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এমএমএফ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ।’
প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ দেয়া এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।—বাসস





