ডুয়েটে ইইই বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত

অ্যালামনাই রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
অ্যালামনাই রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন | ছবি: এখন টিভি
0

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে বিভাগের প্রথম অ্যালামনাই রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে আজ (শনিবার, ৩ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বিদ্যুৎ গ্রিড, কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং সিলিকন প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক যুগকে গতিশীল রাখার পেছনের কারিগর এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালে এসে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং খাত এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। টেকসই জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং, ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, ৫জি ও পরবর্তী প্রজন্মের কমিউনিকেশন সিস্টেম, ন্যানোপ্রযুক্তি নির্ভর ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর এবং ইনটেলিজেন্ট অটোমেশন ব্যবস্থার সমন্বয়ে এ খাত আজ বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। এছাড়া রিনিউয়েবল এনার্জি, শিল্প উৎপাদনের আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিটি বড় পরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতেই ইইই পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য।’

উপাচার্য বলেন, ‘ডুয়েটকে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, কো-কারিকুলাম ও এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম, সুদৃঢ় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ডিং, সক্রিয় অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক এবং টেকসই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অ্যালামনাই রিইউনিয়ন একটি প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় অতীত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন।’

তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিল্প ও গবেষণায় তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা বর্তমান শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য বাস্তবসম্মত দিক-নির্দেশনা হতে পারে।’ অ্যালামনাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতাই ডুয়েটকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, ‘ইইই অ্যালামনাই রিইউনিয়ন একাডেমিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা, শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে বাস্তবসম্মত সংযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি কার্যকর মঞ্চ। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং তাদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে। আমি মনে করি, এই পুনর্মিলন ভবিষ্যতে বিভাগভিত্তিক গবেষণা সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শক্ত ও টেকসই ভিত্তি তৈরি করবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ইইই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রুমা, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং প্রথম ব্যাচের অ্যালামনাই ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইইই বিভাগীয় প্রধান ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং চেয়ার ও পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র) অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এবং কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।

এছাড়া মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজু আহমেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

‘সেলিব্রেটিং দ্য পাওয়ার অব টুগেদারনেস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অ্যালামনাই রিইউনিয়নে মুক্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শিল্পখাতে সম্ভাবনা নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য পর্বের মধ্যে ছিল ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণা, ব্যাচভিত্তিক আড্ডা, গ্রুপ ফটো সেশন, র‌্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণী। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের হাসি-আনন্দ, স্মৃতি রোমন্থন, বন্ধুত্বের উষ্ণতা এবং পুনর্মিলনের আবেগে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে ইইই বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এএইচ