৯ মাস বয়সের মাহদি। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের বেডে অক্সিজেনের ন্যাজাল আর ক্যানুলায় বাঁধা সমস্ত চঞ্চলতা। এক সপ্তাহ আগে জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ভর্তি হয় বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় শিশু হাসপাতালে।
শিশু মাহদির মা বলেন, ‘আমরা শেরে বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেছিলাম। জ্বর কমতছিল না এজন্য আমাদের এখানে রেফার করেছিল। জ্বর কমার পর আবারও হঠাৎ করে জ্বর বাড়ছে, শ্বাসকষ্ট হয়েছে।’
প্রায় একই উপসর্গ নিয়ে এসেছেন আয়মান, জিসানও। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজারের বেশি শিশু। এর মধ্যে ভর্তি হয়েছে প্রায় দেড়শো। তীব্র ঠাণ্ডায় বাড়তি সতর্কতায়ও শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় শঙ্কিত অভিভাবকরা।
রোগীর স্বজনদের একজন বলেন, ‘প্রায় এক মাস থেকে অসুস্থ। শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ঠান্ডা। এখন আবার রক্তে ইনফেকশনও ধরা পড়েছে।’
আরও পড়ুন:
শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। বিশেষজ্ঞ বলছেন, এসব রোগে রক্ত ও হার্টে সংক্রমণে দেখা দিতে পারে দীর্ঘ মেয়াদী জটিলতা।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের শিশু সংক্রমণ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘এ নিউমোনিয়া থেকে হার্ট ফেইল হয়। নিউমোনিয়া থেকে রোগ জীবাণু রক্তে মিশে যেতে পারে। সেই রক্তে মিশে সমস্ত শরীরে যেতে পারে যাকে আমরা বলি সেপ্টিসেমিয়া। আবার এ রোগ জীবাণুগুলো হার্টের মধ্যে গিয়ে হার্টের অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করতে পারে।’
কেবল রাজধানী নয়, সারাদেশের হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ এক হাজার, মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের। এ অবস্থায় বাড়তি প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে হাসপাতালগুলোকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, ‘ভাঙা দরজা জানালাগুলো মেরামত করতে হবে। যে ওষুধগুলো বেশি লাগে সেগুলো মজুদ রাখতে হবে। যে কয়টি বেড আছে তার অতিরিক্ত বেড যদি লাগে তার জন্য এক্সট্রা বেডের ব্যবস্থা করা হবে প্রতিটি হাসপাতালে বলা আছে।’
ঠান্ডাজনিত রোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।





