হামের মাঝেই শিশু টিকায় সংকট; সিরিঞ্জের অভাবে বন্ধ কার্যক্রম

সংকটে টিকা কর্মসূচি
সংকটে টিকা কর্মসূচি | ছবি: এখন টিভি
0

হামের প্রকোপের মধ্যেই সংকট দেখা দিয়েছে শিশুদের অন্যান্য টিকার। কোথাও সিরিঞ্জ সংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে টিকাদান কার্যক্রম। ফলে টিকা দিতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে মজুতে ঘাটতি থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে সংকট না থাকার দাবি অধিদপ্তরের। অপরদিকে সময়মতো টিকা না পেলে শিশু স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়তে পাবে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।

সন্তানকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন মা। অন্যান্য টিকা পেলেও পোলিওর ওপিভি টিকা দিতে পারেননি। এক মাস পর যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে কেন্দ্র থেকে। সন্তানকে সময়মতো টিকা না দিতে পারায় দুশ্চিন্তা ভর করছে তার ওপর।

টিকা দিতে আসা একজন রোগীর স্বজন বলেন, ‘৪৫ দিন বয়সী যে টিকাগুলো দেয়ার কথা ছিলো সবগুলোই পেয়েছি। শুধু পোলিও টিকাটি বাদে সবগুলোই পেয়েছি।’ সাপ্লাইয়ে সব ধরনের টিকা আছে বলে জানান হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

জন্মের ১৫ মাসের মধ্যে একটি শিশুকে সরকারিভাবে ১৪ ডোজ টিকা দেয়া হয়। এর মাধ্যমে অন্তত ১০টি রোগ থেকে সুরক্ষা পায় শিশুরা। তবে বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় কিছু কিছু টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও মজুত টিকা শেষ হয়ে যাবে মে মাসের আগে। এরই মধ্যে সিরিঞ্জের সংকটেও কিছু জায়গায় বন্ধ রয়েছে টিকাদান।

এরই মধ্যে রাজধানীতে পোলিওর বিওপিভি টিকা, যশোরে পেন্টাভেলেন্টস ও যক্ষার বিসিজি টিকা এবং কুমিল্লায় পেন্টাভেলেন্টস, বিসিজি ও নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার পিসিভি টিকার সংকট দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে বর্তমানে বিসিজি, ওপিভি ও এমআর টিকার মজুত নেই। তবে আগেই প্রান্তিক পর্যায়ে এসব টিকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরবরাহজনিত জটিলতা ও চাহিদা বাড়ায় কোথাও কোথাও সংকট দেখা দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘বিসিজি, ওপিভি ও এমআর টিকার মজুত নেই আমাদের কাছে। যেখানে ভ্যাকসিনেসন প্রকল্প চলমান আছে সেখানে কোথাও কোথাও ২ মাস কোথাও ৪ মাসের টিকা মজুত আছে।’

এদিকে, বিগত সময়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শিগগিরই ভ্যাকসিন দেশে চলে আসবে। এছাড়া আপৎকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ব্যবস্থা করা যাবে।

অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘এবার এ সমস্যাটি হয়েছি শুধুমাত্র সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। কেননা কথা ছিলো ৫০ শতাংশ আমরা সরাসরি কিনবো আর ৫০ শতাংশ টিন্ডারের মাধ্যমে কিনবো।’

অন্যদিকে সময়মতো টিকা না দেয়া গেলে শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি কমবে টিকার কার্যকারিতা।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে উপ-পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘যদি সঠিক সময়ে টিকা না দেয়া হয় তাহলে অবশ্যই ঝুঁকিতে পরবে। আর অনেক বছর টিকাদান চলমান থাকায় অনেক রোগ কিন্তু নিয়ন্ত্রণে আছে। যদি এ টিকাদান বন্ধ হয়ে পরে তাহলে রোগ আক্রান্তের পরিমাণ বাড়বে।’

বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউনিসেফ থেকে সরাসরি ৪২১ কোটি টাকার টিকা কিনছে সরকার। এ ক্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে হামের মতো অন্য রোগের প্রকোপ জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

জেআর