৩ বছরেও চালু হয়নি রাজশাহীতে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল

বন্ধ নতুন হাসপাল ও রাজশাহী মেডিকেলে রোগীর চাপ
বন্ধ নতুন হাসপাল ও রাজশাহী মেডিকেলে রোগীর চাপ | ছবি: এখন টিভি
0

রাজশাহীতে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুইশো শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি তিন বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভবন নির্মাণ শেষ হলেও, প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতায় চালু হচ্ছে না হাসপাতালটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করার আশ্বাস বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের।

প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে, আড়াই একর জমির ওপর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটির নির্মাণ শেষ হয় ২০২৩ সালের জুনে। এতে আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ আধুনিক সব সুবিধা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতায় হাসপাতালটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা যায়নি।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতাল ভবনের কোণে কোণে জমেছে ময়লা-আবর্জনা আর আগাছা। অন্যদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংকটে অনেক শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে মেঝেতে কিংবা বারান্দায়। আইসিইউ বেড না পেয়েছে অনেক শিশুর মৃত্যুও হয়েছে অভিযোগ স্বজনদের।

স্বজনরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিদিনই ২ থেকে ৪ জন শিশু মারা যাচ্ছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রোগীর স্বজনরা।

আরও পড়ুন:

বিশেষায়িত হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসা সেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ওপর চাপ কমবে বলে জানান এ মুখপাত্র।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় পরে আছে। আমরা সেটি চালু করতে পারলে রাজশাহী মেডিকেল শিশু ওয়ার্ডের ওপর থেকে চাপ কমবে।’

এরই মধ্যে এটি হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদনসহ বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, ‘এটি চালু করার জন্য প্রথমে এটি হস্তান্তর করতে হবে। এটি গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন কাচ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি হস্তান্তর ও চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সচিব মহোদয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরিদর্শনে আসেন, এর পর থেকে হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

বিপুল অর্থের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি কবে নাগাদ রোগাক্রান্ত শিশুদের উপকারে আসবে, এখন সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে রাজশাহীবাসী।

এফএস