নিহত জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি উভয়েই ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। যেহেতু তাদের পরিবারবর্গ সুদূর বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তাই তাদের বন্ধুরাই এই আইনি লড়াইয়ের পথে শক্ত হাতে হাল ধরেন।
আদালতের করিডোরে দাঁড়িয়ে তাদের বন্ধুরা জানান, বিদেশের মাটিতে আট হাজার মাইল দূরে বসবাস করতে গিয়ে তারা একে অপরকে শুধু বন্ধু নয়, পরিবারের অংশ হিসেবেই বেছে নিয়েছিলেন।
আবির আল হাসিব সৌরভ নামের এক বন্ধু আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে পরিবারের মতো বাঁচি। আমরা একসঙ্গে খাই, একসঙ্গে ঘুরি, একসঙ্গে থাকি। এটা মেনে নেয়া যায় না যে, যে জায়গাটি আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে হতো, আমাদের নিজস্ব রান্নাঘর, আমাদের ঘর, সেখানেই তাদের এভাবে প্রাণ হারাতে হলো।’
স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ শিক্ষার্থীদের এ অটুট সংহতি দেখে অভিভূত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এত শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে আদালতে আসতে দেখে আমি বিস্মিত। এটি সত্যিই অসাধারণ যে তারা তাদের প্রিয় বন্ধুদের হারিয়েও তাদের শেষ আশ্রয় এবং বিচারের দাবি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।’
বিচারক জে. লোগান মারফি নির্দেশ দিয়েছেন যে, অভিযুক্ত আবুগারবিহ মামলার কোনো সাক্ষী বা ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারবে না। আবুগারবিহকে আদালতে হাজির করা হয়নি, তার আইনজীবী তার অনুপস্থিতিতেই প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যা, অবৈধ আটক এবং আলামত নষ্টসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৭ মে মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সব তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে দ্রুতই তারা মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারী দলের ভাষ্যমতে, ঘটনার সূত্রপাত হয় আবুগারবিহ ও লিমনের শেয়ার করা একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে। সেলফোন লোকেশন ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করে পুলিশ লিমনের মরদেহ একটি ব্রিজের কাছে উদ্ধার করে; তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের চিহ্নসহ পাওয়া যায়। পরে ওই একই এলাকায় জলপথে আরও একটি মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগেই অভিযুক্ত আবুগারবিহ চ্যাটজিপিটি কে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘একটি মানুষের দেহ ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হবে?’ চ্যাটজিপিটি উত্তরে এটিকে একটি ‘বিপজ্জনক’ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করেছিল। প্রসিকিউটর সুজি লোপেজ নিশ্চিত করেছেন যে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় এ তথ্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে পুরো ইউএসএফ ক্যাম্পাস এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি শোকাচ্ছন্ন। বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নিহত দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর স্মরণে ক্যাম্পাসে স্মৃতিফলক স্থাপন, মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদান এবং প্রতি বছর স্মরণসভা আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তবে শোকের মাঝেও সবার একটাই দাবি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরিব আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘আমাদের লড়াই চলছে। কিন্তু এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই হত্যাকারীর যেন কঠোর বিচার হয়।’





