উন্মুক্ত স্থানে কোরবানির সুযোগ না থাকায়; কানাডায় বাড়ছে ফার্ম নির্ভরতা

ফার্ম নির্ভরতা বাড়ছে কোরবানির চাহিদা
ফার্ম নির্ভরতা বাড়ছে কোরবানির চাহিদা | ছবি: এখন টিভি
0

ঈদুল আযহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কানাডায় বসবাস করা বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। উন্মুক্ত স্থানে কোরবানির সুযোগ না থাকায়, নিয়ম মেনে পছন্দের পশু বাছাইয়ে যাচ্ছেন গবাদি পশুর ফার্মগুলোয়। কেউ কেউ অনলাইনে অর্ডার সারছেন পশু কোরবানির চুক্তি।

দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানির বাকি হাতেগোনা মাত্র কয়েকদিন। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো কানাডার বিভিন্ন শহরে চলছে কোরবানির প্রস্তুতি।

কানাডার আইন ও স্বাস্থ্যবিধির কারণে বাসাবাড়ি কিংবা খোলাস্থানে পশু কোরবানির সুযোগ নেই। তাই কোরবানির ব্যবস্থা করতে নির্ধারিত ফার্ম ও স্লটার-হাউজেই যাচ্ছেন বাংলাদেশিসহ সব দেশের অভিবাসী মুসলমানরা। টরন্টো, মন্ট্রিয়াল, ক্যালগেরি কিংবা ভ্যাঙ্কুভারের মতো বড় শহরগুলোতে আগে থেকেই বুকিং দিয়েছে অনেক বাংলাদেশি পরিবার। অনলাইনেও গরু বা খাসি পছন্দ করছেন কেউ কেউ।

প্রবাসী একজন বলেন, ‘যারা ছোট শহরে থাকে, তারা নিজেরা ফার্মে গিয়ে সাত ভাগে—ভাগীদারদের নিয়ে গরু নিজেরাই জবাই করে ওই দিনই মাংস কেটে অনেকে নিয়ে আসে। আর যারা বড় শহরে থাকে, ওখানে যে মিট স্টোরগুলো আছে বা পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ান—ওখানে গিয়ে কোরবানির অর্ডার করে, দুই দিন বা তিন দিন পরে এ মাংসগুলো পায়।’

আরও পড়ুন

এবার কানাডায় কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বেশি। আকার ও ওজন ভেদে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত রাখা হচ্ছে একটি গরু। আর ভেড়া বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ডলারের মধ্যে।

ফার্ম কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদ ঘিরে বাড়ছে চাহিদা। তাই পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হালাল জবাই এবং মাংস কাটাকুটি-সবকিছুতেই রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর।

কোরবানির পর মাংস কেটে প্যাকেটজাত করে অনেক ফার্মই সরাসরি বাসায় পৌঁছে দেয়ার সুবিধা দিচ্ছে। এতে ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও স্বস্তিতে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারছেন বাঙালিরা।

প্রবাসী একজন বলেন, ‘কোরবানির হাট কিন্তু কোরবানি ঈদের আনন্দের একটা বিশেষ অংশ। সেইটা এখানে একটু ঘাটতি রয়েছে। এখানে আমরা সাধারণত ফার্ম হাউজে কোরবানি দেই।’

অনেকে নিজেদের জন্য কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকলেও; আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে এবারের ঈদুল আযহা।

জেআর