Recent event

৫০ জাহাজ নিয়ে গাজার পথে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার যাত্রা

গাজার উদ্দেশে রওনা করেছে ৫০ জাহাজ
গাজার উদ্দেশে রওনা করেছে ৫০ জাহাজ | ছবি: সংগৃহীত
1

৫০টি জাহাজ নিয়ে এবার গাজার পথে রওনা হয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নিয়ে ৪৪টি দেশের শত শত প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছেন পরিবেশবিদ গ্রেটা থুনবার্গসহ ডাক্তার, অধিকারকর্মী ও সেলিব্রেটিরা। গাজায় নৌপথে ইসরাইলি অবরোধ ভাঙতে স্পেন থেকে বিশাল এ নৌবহর যাত্রা শুরু করেছে। ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২০০৭ সাল থেকে গাজার আকাশসীমা ও নৌপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। বিশেষ করে নৌপথে পণ্য পরিবহন ও মানুষের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইসরাইলিরা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর অবরোধ আরও জোরদার হয়। তীব্র খাদ্য সংকটে চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়ে গাজাবাসী।

এবার ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গাজার উদ্দেশে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করেছে বিশাল নৌ বহর। আয়োজকরা এর নাম দিয়েছেন গ্লোবাল সমুদ্র ফ্লোটিলা। যেখানে ৪৪টি দেশের ৫০টি জাহাজ অংশ নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য নৌপথে ইসরাইলের অবৈধ অবরোধ ভেঙে গাজায় সহায়তা পৌঁছানো। তাদের বহরে যুক্ত হওয়া কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানায় আয়োজক কমিটি।

ছয়টি মহাদেশের অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপের বেশকিছু দেশ এ যাত্রায় অংশ নিয়েছে। ত্রাণ-বোঝাই এ নৌ বহরে আছেন সুইডিশ পরিবেশবিদ গ্রেটা থুনবার্গ, গেইম অব থ্রোনসের অভিনেতা লিয়াম কানিংহামসহ ডাক্তার, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবীসহ শত শত প্রতিনিধি।

অভিনেতা কানিংহাম বলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য মানুষের মনে জোয়ার এসেছে। বিশ্ববাসীর বিবেক জেগে উঠেছে। আর কিশোরী পরিবেশবিদ থুনবার্গের অভিযোগ, ইসরাইলি গণহত্যার বিষয়ে চুপ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ দিচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আরও পড়ুন:

সুইডিশ পরিবেশবিদ গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, ‘ফিলিস্তিন এবং বিশ্বের অন্যান্য নিপীড়িত মানুষের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আনন্দের বিষয় তাদের প্রতি সংহতি জানাতে বিশাল সংখ্যক মানুষ একত্রিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন। নিপীড়ন ও পরিবেশগত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিনিধিরা।’

অভিনেতা লিয়াম কানিংহাম বলেন, ‘আমি একজন মানুষ। ফিলিস্তিনের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তা সহ্য করার মতো না। মানব জাতির ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে হুমকির মুখে। দখলদার ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে যা করছে তা দেখে চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নয়। প্রত্যেককেই এ বিষয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।’

এবারের যাত্রায় অংশ নিয়েছে চারটি প্রধান জোট। যারা শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। সম্মিলিতভাবে, এটি গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা ইতিহাসের সবচেয়ে বেসামরিক নৌবহর।

নৌবহরে অংশ নেয়া ৪ জোট হলো- গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন, মাগরেব সমুদ্র ফ্লোটিলা এবং সমুদ্র নুসন্তরা।

স্পেনের বার্সেলোনার থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গাজা উপত্যকায় পৌঁছাতে সময় লাগবে অন্তত ৮ দিন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।

এর আগেও বেশ কয়েকবার এ উদ্যোগ নেয়া হলেও, ইসরাইলি বাধায় গাজায় পৌঁছাতে পারেনি কোনো নৌ বহর। ২০১০ সালে তুরস্কের নেতৃত্বে মাভি মারমারা ফ্লোটিলা যাত্রা শুরুর পর জাহাজ লক্ষ্য করে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ১০ জন। চলতি বছরেই দুইবার যাত্রা করে ব্যর্থ হয়েছেন গ্রেটা থুনবার্গ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের জাহাজ আটকে মালামাল জব্দ এবং থুনবার্গসহ ১৩ জন কর্মীকে অপহরণ করে ইসরাইল।

ইএ