অর্থনৈতিক দুরবস্থায় ইরানে সাধারণের নাগালের বাইরে জীবনযাত্রার ব্যয়। এর প্রতিবাদে সোমবার টানা নয়দিনে গড়িয়েছে বিক্ষোভ। সহিংস রূপ নেয়ায় ঝরছে একের পর এক প্রাণ। ধরপাকড় চালিয়েও বিক্ষোভ উত্তেজনা কমাতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উল্টো এক শহর থেকে আরেক শহরে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভের আগুন।
এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আর আন্দোলনকারীদের দমনে দিয়েছেন নির্দেশও। এমনকি বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ এনে শুক্রবার ইরান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দেয়া সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকিতেও মাথা নত না করার অঙ্গিকার করেছেন খামেনি।
আরও পড়ুন:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘দেশকে ধ্বংস ও ক্ষতির দিকে ঠেলে দিতে এমন অস্থিরতা তৈরি করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। দাঙ্গাবাজরা দেশের শত্রুদের ক্ষতি করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আমরা কোনো শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। বরং সাফল্যের মাধ্যমে শত্রুকে নতজানু করবো।’
বিক্ষোভ চলাকালে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নেতার এই ভাষণে রোববার থেকে বিক্ষোভ উত্তেজনার পারদ বেড়ে ৮০টি শহরের দুই শতাধিক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে, চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন দ্য টাইমস ও ইরান ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। দাবি করা হয় বিক্ষোভ দমনে ব্যর্থ হলে রাশিয়া পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে খামেনির। তার যাত্রাবহরে থাকতে পারেন পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ২০ সহযোগী।
নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনির দেশে ত্যাগের এই ব্যাক-আপ প্ল্যান ফাঁস নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এই যখন অবস্থা তখন ফারসি ভাষায় বার্তা দিলো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। যেখানে ইরানকে উদ্দেশ্য করা লেখা হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ঝামেলা করো না।
এদিকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে রোববার থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এমনকি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু করেছে তেহরান।





