বিশ্বব্যাপী বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম, নিরাপত্তার আশ্বাস ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি:সংগৃহীত
0

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী দিন দিন লাফিয়ে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম। জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং হরমুজ প্রণালি ইরান বন্ধ করে দেয়ার পর ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ। এর জেরে তেল-গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে কাতার ও ইরাক। যার প্রভাবে টালমাটাল বৈশ্বিক শেয়ার বাজারও। এমন অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জাহাজে ঝুঁকি বীমা প্রদানের পাশাপাশি নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে। প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম। একদিনের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ ডলার বেড়ে ব্যারেল প্রতি দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৫৩ ডলার। ইউরোপীয়ান গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।

বিশ্বব্যাপী মোট তেলের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ সরবরাহ করে ইরান। দেশটির অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানির হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। চলমান যুদ্ধে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি হামলার মুখে পড়েছে জ্বালানি অবকাঠামো।

পারস্য উপসাগরে একমাত্র প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ জাহাজ চলাচল করে এই প্রণালি দিয়ে। ইরান সমুদ্র পথটি বন্ধ করে দেয়ায় নতুন সংকটে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেশকিছু বীমা কোম্পানি উপসাগরে চলাচল করা জাহাজের ঝুঁকি বীমা বাতিল করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন কমছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:

সরবরাহ ব্যাহত এবং মজুতের সংকটে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে ইরাক। কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাক। একই পথে হাঁটছে কাতারও।

এ অবস্থায় উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে মার্কিন সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয় হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা জ্বালানি তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী নিরাপত্তা দেবে বলে আশ্বাস দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমন পদক্ষেপে শিগগিরই তেলে দাম কমবে বলে আশা তার।

যুদ্ধ ও জ্বালানি খাতে বিপর্যয়ে ধস নেমেছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে। এশিয়ার বাজারের প্রায় সব সূচকই পতনের দিকে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকং ও তাইওয়ানে শেয়ারের সূচক নিম্নমুখী। একই চিত্র ইউরোপের বাজারেও। যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপীয় শেয়ারের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

ইএ