হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধানকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) বিভাগের প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ) এক নাটকীয় ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, ওকলাহোমার প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর এবং সাবেক পেশাদার এমএমএ যোদ্ধা মার্কওয়েন মুলিন এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব নিচ্ছেন। আগামী ৩১ মার্চ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই রদবদলের কথা নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশ্যে নোয়েমের প্রশংসা করে তাকে ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকানস’ নামক একটি নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা জানানো হলেও, নেপথ্যে তার একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যে প্রেসিডেন্ট চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে নোয়েমকে বরখাস্ত করার বিষয়ে কয়েকদিন ধরেই পরামর্শ করছিলেন।

নোয়েমের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে করদাতার অর্থে পরিচালিত ২২০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন। গত মঙ্গলবার সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি এই বিষয়ে নোয়েমকে জেরা করলে তিনি বারবার দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এ ক্যাম্পেইন সম্পর্কে জানতেন এবং এতে সই করেছেন।

তবে হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এমনকি ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সিনেটর কেনেডিকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, নোয়েমের দাবি সত্য নয়।

ট্রাম্পের মতে, নোয়েম তার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন, যা তাকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করেছে। এছাড়া সরকারি আংশিক অচলাবস্থার মধ্যে নোয়েম এবং তার শীর্ষ উপদেষ্টা কোরি লেওয়ান্ডোস্কি হুট করে বিমানবন্দরগুলোর ‘টিএসএ প্রি-চেক’ সুবিধা স্থগিত করার একতরফা সিদ্ধান্ত নেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং পরে হোয়াইট হাউস সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, নোয়েমের এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন:

হাউস শুনানিতে নোয়েমকে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সিডনি কামলাগার-ডোভ নোয়েমকে তার উপদেষ্টা কোরি লেওয়ান্ডোস্কির সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে নোয়েম প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বামপন্থীরা রক্ষণশীল নারীদের হয় বোকা নয়তো চারিত্রিক অপবাদ দিয়ে আক্রমণ করে। আমি এর কোনটিই নই।’

তিনি এই প্রশ্নগুলোকে ‘ট্যাবলেড গারবেজ’ বা সস্তা সংবাদপত্রের আজেবাজে কথা বলে উড়িয়ে দেন। অন্য একজন প্রতিনিধি যখন তার কুকুর ‘ক্রিকেট’কে গুলি করার পুরনো ঘটনা টেনে আনেন, তখন নোয়েম তাকে ‘অত্যন্ত অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেন।

এছাড়া মিনিয়াপলিসে ফেডারেল অভিযানে দুই নাগরিক নিহতের ঘটনায় নোয়েমের ভূমিকা এবং আইস পরিচালনায় তার অদক্ষতা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত নোয়েমকে সেই অঞ্চলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যানকে দায়িত্ব দিতে বাধ্য হন।

এমনকি গত জানুয়ারির মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প তাকে কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত দেননি, যা তার বিদায়ের আগাম সংকেত ছিলো।

বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও নোয়েম দাবি করেছেন যে, তার মেয়াদে ২০ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান রেকর্ড পরিমাণে কমানো হয়েছে। তার সমর্থকরা একে ‘ইতিহাসের সফলতম ইমিগ্রেশন অপারেশন’ হিসেবে দেখছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত আস্থার সংকটে তাকে পদ ছাড়তে হলো। নতুন মনোনীত সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম নেটিভ আমেরিকান (আদিবাসী) সিনেটর।

ট্রাম্পের বিশ্বাস, মুলিনের লড়াকু মানসিকতা এবং কঠোর অবস্থান সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক নির্মূলে নতুন গতি আনবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেলের বাজারের অস্থিরতার মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উচ্চপর্যায়ের রদবদল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করলো।

এফএস