প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ) টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে লাপিদ বলেন, ‘যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত যুদ্ধসেনা না থাকায় সরকার দেশকে নিরাপত্তা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
লাপিদ বলেন, ‘আইডিএফ শেষ সীমা পর্যন্ত ও তারও চেয়েও বেশি চাপের মধ্যে আছে।’ সরকার যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে আহত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।’
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এক দিন আগে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন।’
লাপিদ আরও বলেন, ‘কৌশল ছাড়া, প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়া এবং খুব কম সেনা নিয়ে সরকার সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে পাঠাচ্ছে।’ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, ‘আইডিএফ ধসে পড়ার মুখে।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ) টেলিভিশনে এক ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, ‘বিভিন্ন ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে আরও যুদ্ধসেনা দরকার।’
ডেফরিন বলেন, ‘লেবানন ফ্রন্টে আমরা যে অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষামূলক অঞ্চল তৈরি করছি, তার জন্য আইডিএফের অতিরিক্ত বাহিনী প্রয়োজন।’ তিনি দখলকৃত পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়াতেও বাড়তি প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন।
লাপিদ বলেন, ‘জামির মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন যে রিজার্ভ সেনারা ষষ্ঠ ও সপ্তম দফা রোটেশনও করছেন। এই সেনা রিজার্ভরা ক্লান্ত ও অবসন্ন; তারা আর আমাদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারছে না।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মিশনের জন্য পর্যাপ্ত সেনা নেই।’
লাপিদ অতিধর্মপ্রাণ হারেদি (উল্ট্রা-অর্থোডক্স) সম্প্রদায়ের পুরুষদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন:
ইসরাইলে সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও দেশ প্রতিষ্ঠার সময়কার একটি নিয়মের আওতায়—যখন অতিধর্মপ্রাণরা খুবই ছোট একটি সম্প্রদায় ছিল—যারা পূর্ণ সময় ধর্মীয় ইহুদি গ্রন্থ অধ্যয়নে নিয়োজিত থাকেন, তাদের কার্যত ছাড় দেয়া হয়।
লাপিদ বলেন, ‘সরকারকে কাপুরুষতা বন্ধ করতে হবে, হারেদি সেনাসেবা এড়ানোদের সব অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, পলাতকদের পেছনে সামরিক পুলিশ পাঠাতে হবে এবং দ্বিধা না করে হারেদিদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জামির সতর্ক করে বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী নিজের মধ্যেই ভেঙে পড়বে।’ লেবাননে বাড়তি প্রতিরোধের মুখে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণের অংশ দখলের ঘোষিত মিশনে সেনা পাঠানোর পাশাপাশি ইসরাইল লেবাননে শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে, ১০ লাখের বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।
চ্যানেল ১৩ নিউজের বরাতে বলা হয়, জামির মন্ত্রীদের বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে ১০টি লাল পতাকা তুলছি।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামির বলেন, ‘আইডিএফের এখন একটি বাধ্যতামূলক সেনাভর্তি আইন, রিজার্ভ ডিউটির আইন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই আইডিএফ নিয়মিত মিশনের জন্য প্রস্তুত থাকবে না এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাও টিকবে না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান, লেবানন ও গাজায় হামলা চালিয়ে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক যুদ্ধফ্রন্ট খুলেছে। এছাড়া সমঝোতাভিত্তিক যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে মাঝে মাঝে সিরিয়ায়ও হামলা ও অভিযান চালিয়েছে।
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের সময় তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে ৮ মার্চ দুই সেনা নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়। এ নিয়ে দক্ষিণ লেবাননে নিহত ইসরাইলি সেনার সংখ্যা চার।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা অনুপ্রবেশকারী ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে একাধিক ওত পেতে হামলা চালিয়েছে এবং অনেক মার্কাভা ট্যাংক ধ্বংস করেছে।





