এশিয়া থেকে ৩১তম ও ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের হাজারো মেরিনকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপারও ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। তাদের দায়িত্ব হলো, নির্দেশ পাওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বজুড়ে মোতায়েন হওয়া এবং প্যারাশুট অ্যাসল্ট পরিচালনা করা। এর মধ্যে প্রতিরক্ষাবেষ্টিত একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে আরও স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নেয়ার কাজও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার আবারও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, স্থল সেনা নামানো ছাড়াই তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে মেরিনরা অবস্থান নিলে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে চাপ তৈরি করতে বা বলপ্রয়োগ করে প্রণালি বন্ধ রাখার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারী সাঁজোয়া ইউনিট, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপাদান না থাকায় হোয়াইট হাউসের পক্ষে সংঘাত বাড়ানোর সক্ষমতা সীমিত থাকবে। এতে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত খার্গ দ্বীপ। ইরানের উপকূলের কাছে ৯ বর্গমাইলেরও কম আয়তনের এই প্রবালদ্বীপ দিয়ে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ প্রবাহিত হয়। ফলে দ্বীপটি তেহরানের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফলাইন’; এটি হারানো ইরানি শাসনের জন্য বড় আঘাত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০-এর দশকে গার্ডিয়ানকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরান যদি মার্কিন জাহাজে গুলি চালায়, তাহলে তিনি খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতেন; ঢুকে সেটি দখল করতেন।’ এছাড়া অতীতের বড় বড় অভিযানে (ইরাক, আফগানিস্তান) ব্যবহৃত সেনাসংখ্যার তুলনায় এবারের মোতায়েন অনেক কম। আর খার্গ দ্বীপ দখলের মতো অভিযান হলে তা ড্রোন, রকেট ও গোলাবর্ষণের মুখে ‘বিতর্কিত’ উভচর অবতরণের বিরল উদাহরণ হতে পারে। দ্বীপের কাছে অবস্থান নিতে মার্কিন সেনাদের এক দিনের বেশি সময় লাগতে পারে, এ সময় ইরান দ্বীপের আশপাশে মাইন পেতে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
মার্কিন বাহিনী দ্বীপটি দখল করতে পারলেও কত দিন ওই ভূখণ্ড ধরে রাখতে হবে—তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলতে বা যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে পারবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিকল্প হিসেবে খার্গ দ্বীপে বোমা হামলা আরও জোরদার করা হতে পারে।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।’ চলতি মাসে দ্বীপে হামলা নিয়ে ভাবনার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একটা শব্দ বললেই পাইপগুলো উড়ে যাবে।’
হরমুজ প্রণালিতে আরও কিছু দ্বীপকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পারস্য উপসাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশম দ্বীপে ইরানের আক্রমণকারী নৌযান, ড্রোন, সমুদ্র মাইনসহ জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম মজুত থাকে। তবে প্রায় ৫৬০ বর্গমাইল আয়তনের কেশম দ্বীপ উপলব্ধ সেনা দিয়ে দখল করার জন্য খুব বড় হতে পারে বলেও বলা হয়েছে।
আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য লারাক দ্বীপে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ‘চোকপয়েন্ট’ ধরে রাখতে ব্যবহৃত ইরানি অস্ত্রের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে বলা হয়, লারাক ও বিতর্কিত আবু মুসা দ্বীপে হামলার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভাবছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সেনা মোতায়েন অন্য মিশনেও ব্যবহৃত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র গত জুনে ইরানে হামলার পর নিখোঁজ হওয়া ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (এইচইইউ) খুঁজছে। আলোচনার মধ্যে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের প্রধান হুমকি ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির পথ হতে পারে—যুদ্ধের শুরু থেকে যে উপায়গুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো দিয়েই ইরানে চাপ আরও বাড়ানো।





