সুযোগের কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পরামর্শ দিলেন ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানা ও হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়ার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে যুদ্ধের অবসান ঘটানো উচিত ইরানের। তুরুস্কের টিআরটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা জারিফ মার্কিন সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ইরানের কাছে এখন ‘সুযোগ’ রয়েছে। তবে আরও বেসামরিক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি ঠেকাতে ইরানকে যুদ্ধ থামাতে হবে।

তিনি লেখেন, ‘ইরান তার সুযোগকে লাগিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, বরং বিজয় ঘোষণা করে এমন একটি চুক্তি করা উচিত, যা এই সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং পরের সংঘাত ঠেকাবে।’

জারিফ আরও বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক সব নিষেধাজ্ঞার অবসানের বিনিময়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে সীমা আরোপ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রস্তাব দিতে পারে—এমন একটি চুক্তি, যা ওয়াশিংটন আগে নিতো না, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এখন তা গ্রহণ করতে পারে।’

তিনি আরও জানান, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারস্পরিক ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও প্রস্তুত থাকতে হবে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে হওয়া কিন্তু এখন প্রায় নিষ্ক্রিয় ওই চুক্তির অন্যতম স্থপতি জারিফ ইরানি রাজনৈতিক অভিজাতদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে বিবেচিত। তবে বর্তমান সরকারে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই।

আরও পড়ুন:

তবে এই সংঘাতে ইরানের একজন উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তি প্রথমবারের মতো যুদ্ধের অবসান ও চুক্তির আহ্বান জানালেন। এর আগে শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা প্রায় প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে কথা বলে আসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার কথা বললেও বিস্তারিত জানাননি। একই সঙ্গে শর্ত না মানলে দেশটিকে ‘পাথরের যুগে’ ফিরিয়ে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন।

আজ (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল) এক্সে ইংরেজিতে পোস্ট করা বার্তায় জারিফ লেখেন, ‘একজন ইরানি হিসেবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া আগ্রাসন ও রূঢ় অপমান আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। তবু আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও স্থিতিশীল জনগণের জন্য আমি গর্বিত। তাই ফরেন অ্যাফেয়ার্সে এই শান্তি-পরিকল্পনা প্রকাশ করা নিয়ে আমি দ্বিধায় আছি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তবে আমি নিশ্চিত যে যুদ্ধের অবসান ইরানের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শর্তেই হতে হবে।’

ফরেন অ্যাফেয়ার্সের নিবন্ধে জারিফ সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া মনস্তাত্ত্বিকভাবে সন্তোষজনক মনে হতে পারে, কিন্তু এতে কেবল বেসামরিক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর আরও ধ্বংস হবে।’

এএম