নিখোঁজ মার্কিন ক্রু: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নতুন টার্নিং পয়েন্ট?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত | ছবি: সংগৃহীত
0

বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু হয়ে উঠতে পারে ইরান সংঘাতের টার্নিং পয়েন্ট। কারণ, আহত ঐ বিমান সেনাকে হেফাজতে নিতে পারলে সম্ভাব্য আলোচনায় দর কষাকষির বাড়তি সুবিধা পাবে তেহরান। আর মার্কিন সেনা আইআরজিসির হাতে আটক হলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকিতে পড়বে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্লেষকরাও মনে করেন, যুদ্ধকালীন উদ্ধার অভিযানের ইতিহাসে এটি হতে চলেছে অন্যতম জটিল মিশন।

মাত্র কয়েকদিন আগেই পেন্টাগন দাবি করেছিল, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু একদিনে দু'টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে তেহরান প্রমাণ করলো, এখনও শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ধ্বংসের সক্ষমতা আছে তাদের।

যুদ্ধের ৩৫ তম দিনে ইরানের মধ্যাঞ্চলে মার্কিন এফ ১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ডিফেন্স ফোর্স। একই দিনে ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় একটি মার্কিন এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এই এ-১০ ওয়ারথগ এসেছিল এফ ১৫-এর ক্রুদের অনুসন্ধান করতে।

জানা গেছে, এর পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। আর নিখোঁজ ক্রু বা পাইলটদের সন্ধান দিলে ১০ বিলিয়ন ইরানিয়ান তোমান পুরস্কার ঘোষণা করে তেহরান।

আরও পড়ুন:

আল জাজিরার তথ্য এখনও পর্যন্ত একজন পাইলট ও এক ক্রু-কে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধার হওয়ার একজন এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমানের পাইলট এবং অপরজন এফ ১৫ স্ট্রাইক ইগলের ক্রু। নিখোঁজ তৃতীয় জনকে উদ্ধারে চলছে সিএসএআর অভিযান।

শুক্রবার দক্ষিণ ইরানের আকাশে মার্কিন বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারগুলোকে চক্কর দিতে দেখা গেছে। এসময় দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারে আঘাত হেনেছে আইআরজিসি। পেন্টাগন সূত্র বলছে, স্থলপথে অভিযান চালাবে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স ও প্যারারেসকিউ জাম্পার।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ কোনো যোদ্ধাকে উদ্ধার সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক অভিযানের একটি। সাধারণত এ ধরনের অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। আর এসময় সহায়তার জন্য থাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং পাহারায় থাকে অন্যান্য এয়ারক্রাফট।

এসব অভিযানে, উদ্ধারকারীদের দলে থাকেন ডেল্টা ফোর্স বা নেভি সিলের মতো উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চৌকশ সেনা। যারা যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের পাঁচ সপ্তাহ পরে এসে এই নিখোঁজ ক্রু বা পাইলটকে খুঁজে বের করাই হতে পারে টার্নিং পয়েন্ট। ইরানের আইআরজিসি ঐ মার্কিনীর সন্ধান পেলে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলতে পারবে তেহরান। আর রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে যুদ্ধে আটক মার্কিন ক্রু বা পাইলটকে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

ইএ