রাতের অন্ধকার কাটিয়ে সবে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে ইসরাইলে। এরইমধ্যে মাঝ আকাশে একের পর এক আলোর ঝলকানি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তেল-আবিব, হাইফাসহ একাধিক নগরী কেঁপে ওঠে ইরানের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে। মুহূর্তেই বেজে ওঠে সাইরেন।
হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী হাইফা। চোখের নিমিষে মাটির সঙ্গে মিশে যায় আবাসিক ভবন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন। এছাড়াও, ইরানের হামলায় মধ্য ইসরাইলের অন্তত ১৫টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জবাবে, তেহরানের প্রদেশের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালায় আইডিএফ। ফের প্রাণহানির তালিকায় যুক্ত হয় বেশ কয়েকজন শিশুর নাম। হামলা হয়েছে তেহরানের একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ইরানের বাইরে ইস্টার সানডের দিনও লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে বাড়ছে প্রাণহানি। এছাড়াও, নতুন করে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিতের দাবি আমিরাত ও কুয়েতের।
তবে ট্রাম্পের ক্রমাগত চাপের মুখে ইরানের পালটা হুঁশিয়ারি, বেসরকারি স্থাপনায় হামলা হলে আরও বেশি বিধ্বংসী হামলা চালাবে তেহরান। আর যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলের জন্য হরমুজ আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে বিবৃতি দিয়েছে আইআরজিসি। রুটটিতে টোল আদায়ে ইতোমধ্যে জলপথটিতে দিয়ে চলাচলকারী নৌযানের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপের খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, নীতিমালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন দেয়া রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে অব্যাহত হামলার মাঝেও অ্যক্সিওসের খবর, ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলো। আর হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের অশালীন আল্টিমেটামের নিন্দার ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট আইন প্রণেতার কণ্ঠে। প্রেসিডেন্ট যুদ্ধাপরাধ উস্কে দিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ সিনেটরদের।





