হোয়াইট হাউস বলছে, সফর স্থগিতের কোনো আলোচনা এখন পর্যন্ত নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেলবাহী চীনা জাহাজ আটকে দেয়া হলে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন সংকটে পড়বে।
শি জিনপিংয়ের ‘জঙ্গলের আইন’ বার্তা
গতকাল (মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই যুদ্ধ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। ট্রাম্পের নাম না নিলেও তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যেন ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে না যায়। আবুধাবির যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইঙ্গিত দেন, আন্তর্জাতিক আইনকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করা বা ছুড়ে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই’। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংর এই বক্তব্যকে সেই অবস্থানের সরাসরি জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অবরোধের মুখে চীন
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই কিনতো চীন। গত সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যখন চীনা পতাকাবাহী কার্গো জাহাজগুলো ফিরিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়, তখন বেইজিংয়ের সুর কঠোর হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, এই ‘লক্ষ্যভিত্তিক অবরোধ’ নাজুক যুদ্ধবিরতিকে বিপন্ন করবে।
ট্রাম্পের দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ
বাইডেন প্রশাসনের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেলের মতে, ট্রাম্প এখন নিজের তৈরি করা দুটি বড় লক্ষ্যের সাংঘর্ষিক অবস্থানে আছেন। একদিকে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া চীনের পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে চান, অন্যদিকে তিনি বেইজিং সফরকে সফল করে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী।
শুল্কের হুমকি ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, চীন সম্ভবত ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে। ট্রাম্প এ নিয়ে বলেন, ‘যদি তাদের হাতেনাতে ধরি, তবে ৫০ শতাংশ শুল্ক (ট্যারিফ) বসবে।’ তবে পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আর উচ্চবাচ্য করেননি, সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন যে নতুন শুল্কের হুমকি তার পরিকল্পিত চীন সফরকে ভেস্তে দিতে পারে।
কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রুশ ডোসি মনে করেন, এআই চিপ বা খনিজ সম্পদের লড়াই নয়, বরং ইরান ইস্যুই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুতে যেভাবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়েছে, তা চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এক মাস পর ট্রাম্প যখন বেইজিংয়ে নামবেন, তখন হরমুজের এই অবরোধ জারি থাকলে দুই নেতার বৈঠক কতটা সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।





