হরমুজ সংকটে জ্বালানি বিপর্যয়; বিশ্বে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি | ছবি: সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিপর্যয় শুরু হয়েছে তা বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের দিকে। এমন আশঙ্কা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা। আর বার্তা সংস্থা এপির খবর, ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত আছে আর মাত্র ছয় সপ্তাহের। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ ইস্যুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যের তাড়াতাড়ি সমঝোতা না হলে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট এড়ানো কঠিন হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য, বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আকার ধারণ কর‌তে পারে অর্থনৈতিক মন্দা। কোটি কোটি মানুষ পড়তে পারেন ভয়াবহ খাদ্য সংকটে। এএফপি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন বিশ্বের ২০ শতাংশ মানুষ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধানপথ হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে সারের দাম। বেশিরভাগ সার তৈরিতে লাগে তেল-ভিত্তিক কাঁচামাল। সারের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দেশ খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে এবং নিজেদের জন্য খাদ্য মজুত করতে পারে। এতে রাতারাতি বেড়ে যেতে পারে খাদ্যপণ্যের দাম। এছাড়াও যুদ্ধের কারণে জারি করা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাগুলোও ভাবাচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুন:

এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত বা ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ। রয়টার্স জানিয়েছে, পেট্রোকেমিক্যালের ঘাটতি এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হলেও সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা ছড়িয়ে পড়বে আফ্রিকাতেও।

এদিকে, হরমুজে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সংকটে ইউরোপও। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা প্রধান মন্তব্য করেছেন, ইউরোপের কাছে আর মাত্র ছয় সপ্তাহের মতো বিমানের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল মজুত আছে। সতর্ক করেছেন, তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে ইউরোপজুড়ে শীঘ্রই ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়বে।

একে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট হিসেবেও পর্যালোচনা করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা। তাদের দাবি, ইউরোপের জেট ফুয়েল ঘাটতি নিয়ে অনেক প্রতিবেদন সামনে আসলেও এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে তেমন প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে না।

এফএস