বৈশ্বিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় গত আগস্ট থেকে টানা ৮ মাস ধরে কমছে তৈরি পোশাক রপ্তানি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সংকটে ক্রয়াদেশ ও দাম কমিয়ে দিচ্ছে বিদেশি ক্রেতারা। যাও অর্ডার মিলছে, ডিজেল সংকট ও যুদ্ধের কারণে কাঁচামাল পেতে দেরির কারণে- উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় যথাসময়ে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। কেবল মার্চেই গত বছরের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।
বিজিএমইএ এর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গত বছরের থেকে এ বছর বিজনেস একটি নেগেটিভ ট্রেন্ডে আছে। অর্ডার অলরেডি একটু স্লো হয়ে গেছে। কাস্টমাররা দেখছে সিচুয়েশন কোন দিকে যায়। আমরাও অনেক ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট রক্ষা করতে পারছি না।’
এদিকে তৈরি পোশাকের কাঁচামালের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। পেট্রোলিয়াম ও প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামালের সিংহভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কাঁচামাল সংকটে পড়েছে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্পখাত। সেই সঙ্গে কাঁচামালের দামও বেড়েছে অনেক। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় রপ্তানির বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা খন্দকার লতিফুর রহমান আজিম বলেন, ‘আমাদের আগের প্রাইজের সঙ্গে অলমোস্ট ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ যুক্ত করে আমাকে পণ্যটি বিক্রি করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এখানে বিশাল প্রভাব পড়ছে।’
যুদ্ধবিরতিতেও হরমুজ প্রণালি সচল না হওয়ায় সমুদ্রপথে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি দুটোই কার্যত বন্ধ আছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বীমার খরচ বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী পণ্যের বুকিং নিচ্ছে না অধিকাংশ শিপিং লাইন। যেসব রপ্তানি চালান পাঠানো হয়েছে সেগুলোও বিভিন্ন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে আটকে আছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।
চট্টগ্রাম সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতি সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘সমুদ্রপথে কোনো মালামাল রপ্তানি হয়নি। আলু কন্টেইনারে লোড করেছি। দুই তিন দিন পর জাহাজ উঠবে, এমন সময় যুদ্ধ শুরু হওয়াতে আমরা এনে খোলা বাজারে বিক্রি করেছি।’
গত অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৭৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর রপ্তানি নেমেছে অর্ধেকে। আকাশপথে সীমিত আকারে সৌদি আরব, আমিরাত ও ওমানে রপ্তানি করা গেলও বাহরাইন ও কাতারে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। যদিও আকাশপথে কেজি প্রতি ভাড়া বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ সেন্ট।





