যুক্তরাষ্ট্রের চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে হাউজ চেম্বারে সমবেত আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে রাজা বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় থেকেই আমেরিকার শব্দের একটি আলাদা ওজন ও অর্থ রয়েছে। এই মহান জাতির পদক্ষেপগুলো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট লিংকন তার গেটিসবার্গ ভাষণে এটি অনুধাবন করেছিলেন যে, বিশ্ব হয়তো আমরা কী বলছি তা মনে রাখবে না, কিন্তু আমরা কী করছি তা কখনোই ভুলবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী সামনে রেখে দুই দেশের জনগণকে একে অপরের সেবায় পুনরায় উৎসর্গ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজা চার্লস ও কুইন ক্যামিলার এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। প্রায় ৩০ মিনিটের ভাষণে চার্লস দুই দেশের চার শতাব্দী পুরোনো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসকে ‘গণতন্ত্রের দুর্গ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন:
ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত চলমান অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে রাজা বলেন, ‘আমরা সব সময় সব বিষয়ে একমত হই না। তবে আমাদের এই অংশীদারত্ব মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী জোট। এই মৈত্রী আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বর্তমান অনিশ্চিত পরিবেশে আমাদের জোট কেবল অতীতের অর্জনের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে পারে না।’
ভাষণে রাজা চার্লস গত শনিবার হোয়াইট হাউজ করেসপনডেন্টস ডিনারের গোলাগুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের সহিংসতা কখনোই সফল হবে না।’ তার এই বক্তব্যে আইনপ্রণেতারা দাঁড়িয়ে করতালি দেন। এছাড়া তিনি ন্যাটো জোটের গুরুত্ব এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় দুই দেশের ‘অবিচল সংকল্প’ বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা ৯/১১-এর পরবর্তী সময়ে দুই দেশ যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিল, ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আজও সেই একই সংকল্প প্রয়োজন।
এর আগে, ১৯৯১ সালে চার্লসের মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রথম ব্রিটিশ রাজশাসক হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছিলেন। ভাষণের আগে রাজা চার্লস সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সকালে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প রাজকীয় এই দম্পতিকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান। সেখানে ট্রাম্প দুই দেশের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে তা সব সময় অটুট থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।





