মঙ্গলবার একরকম হঠাৎ করেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। যা কার্যকর হতে যাচ্ছে ১ মে থেকেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদত্যাগ নিশ্চিতভাবেই ওপেক এবং ওপেক প্লাস জোটের জন্য একটি বড় ধাক্কা। দেশটির সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহের নির্ধারিত কোটা উঠে গেলে নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে পারবে আবুধাবি। এই স্বাধীনতা পেতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।
রুশ জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ বলেন, যদি হরমুজ প্রণালি আপাতত বন্ধও থাকে, শুধু এই খবরটিই তেলের দাম কমিয়ে দেবে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ কমবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা লাভবান হবেন আর মার্কিন উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে কিছু ইউরোপীয় আমদানিকারক দেশ এবং চীন এতে লাভবান হবে।
তবে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন বলছে-এর ফলে এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলে ধীরে ধীরে জ্বালানি সংকট বাড়ার পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি ওপেকের পতনের সূচনাও ডেকে আনতে পারে।
আরও পড়ুন:
আরেকদিকে আরটি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক এবং ওপেক প্লাস জোট ছেড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ধরনের পর্দার আড়ালের চুক্তি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর বিনিময়ে ওপেক এবং ওপেক প্লাসকে দুর্বল করে বিশ্ববাজারে দাম কমাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নাগালে আসার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ কমে আসবে।
রুশ জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ বলেন, প্রথমত ওপেক ছেড়ে গেলেও আরব আমিরাত এই মুহূর্তে তেল রপ্তানি বাড়াতে পারবে না। হরমুজ খুলে দিলেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও বেশি তেল রপ্তানি সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত অন্যান্য দেশগুলো ওপেক থেকে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে এবং এর ফলে পুরো সংস্থাটির পতন ঘটতে পারে।
এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপ রাশিয়াকে বিপদে ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে রাশিয়ার তেল-গ্যাস থেকে পাওয়া আয় কমে আসবে। যা হতে পারে দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা।
আরেকদিকে কিছু বিশ্লেষক বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপ উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী আরও কিছু সদস্য দেশকে ওপেক ছাড়তে উৎসাহিত করতে পারে। ইতোমধ্যেই গেল দশকে, উৎপাদন কোটা ও সদস্যপদের খরচ ,রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অ্যাঙ্গোলা, ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া এবং কাতারসহ বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ ওপেক থেকে বেরিয়ে গেছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক ওপেক চুক্তি অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৩-৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেলে সীমাবদ্ধ। আবুধাবি দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকে তাদের উৎপাদন কোটা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দেশটি এখন ২০২৭ সালের মধ্যে তার উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওপেক-এর বাইরে থাকলে দেশটি তার পূর্ণ ক্ষমতার কাছাকাছি তেল উত্তোলন করতে সক্ষম হবে।





