মঙ্গলবার কলকাতার তিলজলার জি জে খান রোডে অবস্থিত একটি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পাঁচতলার ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রজত আলী মোল্লা এবং মোহাম্মদ হাসানুর জামান নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিনজন। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ প্রশাসন। কড়া বার্তা আসে মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকেও। মঙ্গলবার সকালেই ওই ভবনের দুই মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এমনকি বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিলজলার ওই অবৈধ কারখানায় কোন ভবনের পরিকল্পনা নেই। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও ঠিকঠাক ছিল না। একদিনের মধ্যে ওই অবৈধ কারখানাকে ভেঙে ফেলার জন্য পৌর ও নগর উন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে পার্মানেন্ট ইলেকট্রিক ডিসকানেকশন করার অর্ডার দিয়েছি। সিইএসসিকে বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। যত এই ধরণের বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন নেই, অবৈধ কারখানা আছে, বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, ইকবালপুরসহ এই এলাকাতে ইমিডিয়েটলি একটি ইন্টারনাল অডিট করে যাদের যাদের বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন নেই, তাদের ইলেকট্রিসিটি ডিসকানেক্ট করার জন্য।’
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পরেই কলকাতা পৌরসভা ও পুলিশের উপস্থিতিতে এদিন সন্ধ্যায় কলকাতার তিলজলায় ওই অবৈধ কারখানাটিকে বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এর আগে ওই ভবনটিতে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল।
বুধবার পরিদর্শনে গিয়ে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘যে যে অবৈধ বাড়ি আছে, তাদের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। আর আপনারা পেপার দেখান, যদি এমন হয় যে আমাদের কাছে পেপার নেই কিন্তু আপনাদের কাছে আছে, সেটাও আমরা দেখবো। কিন্তু অ্যান্ড অফ দ্য ডে, যদি প্রমাণ হয় যে আপনার বিল্ডিং এনওসি ছাড়া তৈরি হয়েছে, কোনো পারমিশন নেই, তবে আমাদের অ্যাকশন নিতেই হবে।’
এদিকে বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি রেল স্টেশন সংলগ্ন নৈহাটি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজ রোড সংলগ্ন রেলের জায়গায় বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়টিও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয় রেল প্রশাসন।





