নিজের দলের এমপিদের চাপে কোণঠাসা কিয়ার স্টারমার, পদত্যাগের দাবি জোরালো

কিয়ার স্টারমার
কিয়ার স্টারমার |
0

স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ আরও তীব্র হয়েছে। নিজের দলের ভেতরেই বিদ্রোহ শুরু হওয়ায় স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব এখন খাদের কিনারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তার সরকারের চারজন গুরুত্বপূর্ণ সহকারী পদত্যাগ করেছেন এবং ৭০ জনেরও বেশি এমপি তাকে পদ ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কিয়ার স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে অন্তত ৮১ জন এমপির (মোট এমপির ২০ শতাংশ) সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে নেতৃত্বের এই লড়াই যেকোনো সময় শুরু হতে পারে। ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে খবর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানজনকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠ সংসদীয় প্রতিনিধি জো মরিস এক্সে (টুইটার) লিখেছেন, দেশের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ১৪ বছরের রক্ষণশীল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বড় জয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন স্টারমার। কিন্তু শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের দায়ে অভিযুক্ত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা এবং পরে তাকে বরখাস্ত করা নিয়ে স্টারমার বড় কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সম্প্রতি নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি ও বামপন্থি দলগুলোর কাছে লেবার পার্টির ভোট হারানোয় স্টারমারের কর্তৃত্ব এখন তলানিতে।

এমনকি ১৯৯৯ সালে ওয়েলস পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম সেখানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে লেবার পার্টি। স্কটল্যান্ডেও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই তারা। সোমবার এক ভাষণে স্টারমার জনঅসন্তোষের কথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি জানি আমাকে নিয়ে সন্দেহ আছে। আমি যে ভুল নই, সেটি প্রমাণ করে ছাড়ব।’ তিনি অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানিয়েছেন, তারা স্টারমারকে সরিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তবে কনজারভেটিভ সরকারের মতো ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী বদলে দেশে যেন রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে দলকে সতর্ক করেছেন স্টারমার।


এএম