দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে আজ (শুক্রবার, ১৫ মে) আরাঘচি এসব কথা বলেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে তিনি এই কড়া বার্তা দিলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ‘মিশ্র সংকেত’ দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল আরও বড় করেছে।
অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও কয়েক সপ্তাহ আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা থমকে যায়। ইরান শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনীতির কথা বলে আর অন্যদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক তৎপরতা নিয়ে চাপ অব্যাহত রেখেছে।
সম্মেলনে আরাঘচি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি এই পথটির বর্তমান অবস্থাকে ‘অত্যন্ত জটিল’ বলে বর্ণনা করেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আরাঘচির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। এ ছাড়া চীন সফরে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দেয়ার বিষয়ে তিনি ও শি জিনপিং একমত হয়েছেন।
কড়া বাকযুদ্ধ চললেও ইরানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যদি নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকি কমানো হয়, তবে কূটনীতি এখনো সম্ভব। চলতি বছরের শুরুর দিকে আরাঘচি বলেছিলেন, কূটনীতিকে প্রাধান্য দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়া ‘নাগালের মধ্যেই’ রয়েছে।





