কিয়েভে আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৪

ভলোদিমির জেলেনস্কি নিহতদের স্মরণে ভবনের সামনে ফুল দিচ্ছেন
ভলোদিমির জেলেনস্কি নিহতদের স্মরণে ভবনের সামনে ফুল দিচ্ছেন | ছবি: সংগ্রহীত
0

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে রাশিয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন কিশোরও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত বছরের পর এটিই ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো সবচেয়ে বড় বিমান হামলা। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (শুক্রবার, ১৫ মে) জেলেনস্কি জানান, এক দিনেরও বেশি সময় ধরে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে জরুরি সেবা কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, রাশিয়ার এই হামলায় অন্তত ১৮০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টিরও বেশি আবাসিক ভবন রয়েছে। শুধু কিয়েভেই ৪৮ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালনের কথা থাকলেও তার ঠিক পরপরই এই বড় ধরনের হামলা চালাল মস্কো। জেলেনস্কির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের জনবসতি লক্ষ্য করে ১ হাজার ৫৬০টিরও বেশি ড্রোন ছুড়েছে। এর আগে গত ২৪ মার্চ প্রায় ১ হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল মস্কো।

ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, যে ক্ষেপণাস্ত্রটি কিয়েভের আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে সেটি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তৈরি। তার মতে, এর অর্থ হলো বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া এখনো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানি করতে পারছে। তিনি এই নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেয়ার পথগুলো বন্ধ করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এক রাতেই ইউক্রেনের ৩৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার রিয়াজান এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর সেখানকার একটি তেল শোধনাগারে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ভয়াবহ এই হামলার শোক পালনে শুক্রবার কিয়েভে আনুষ্ঠানিক শোক দিবস পালন করা হয়। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় শুক্রবার উভয় দেশ ২০৫ জন করে মোট ৪১০ জন বন্দী বিনিময় করেছে। জেলেনস্কি জানান, এটি পরিকল্পিত ১ হাজার জন বন্দী বিনিময়ের প্রথম ধাপ।

এএম