ইরানের সড়কজুড়ে ট্রাম্প-মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যঙ্গাত্মক ছবি

ইরানের সড়কজুড়ে গ্রাফিতি
ইরানের সড়কজুড়ে গ্রাফিতি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুদ্ধকালীন ব্যানার ও বিলবোর্ডের নানা ছবি কঠিন পরিস্থিতিতেও শক্তি ও প্রেরণা যোগাচ্ছে ইরানের বাসিন্দাদের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরানের প্রধান সড়কে ভেসে উঠছে বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী ছবি। এসব ব্যানারে ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যঙ্গাত্মক ছবি এবং ইরানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সামরিক শক্তির রূপ ফুটে উঠেছে। যা বহন করছে প্রতিশোধের বার্তা।

গেল এপ্রিলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই ইরানকে গুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস, নেতৃত্বশূন্য করা এমনকি ইরানের গোটা সভ্যতা ধ্বংসের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে ট্রাম্পের এমন হুশিয়ারিতে একবিন্দু দমে যায়নি ইরান। তারাও পাল্টা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। চোখে চোখ রেখেই যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিচ্ছে তেহরান। যুদ্ধকালীন এবং এর পরবর্তী সময় থেকেই ইরানের বিভিন্ন সড়কের ব্যানার ও বিলবোর্ডে ভেসে উঠেছে প্রতিশোধমূলক নানা বার্তা।

এসব ব্যানার, বিলবোর্ড ও দেয়াল চিত্রে শোভা পাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা ব্যঙ্গাত্মক ছবি। যুদ্ধে ক্লান্ত ট্রাম্প এছাড়া তার মুখ সেলাই করা ছবিসহ নানা চিত্র। তেহরানের বাসিন্দারা বলছেন, এসব ছবি তাদের শক্তি ও প্রেরণার উৎস।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় একজন বলেন, ‘এসব ব্যানার সত্যিই মানুষের মধ্যে এক ধরনের শক্তি যোগায়। যুদ্ধের মধ্যেও প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে এসব প্রতীকী ছবি।’

অন্য আরেকজন ব্যক্তি বলেন, ‘ব্যানার ও বিলবোর্ডের এসব ছবি দেখে ইরানের মানুষজনের মধ্যে এক ধরনের অনুপ্রেরণা কাজ করে। যুদ্ধের পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব ছবিতেও আসে পরিবর্তন যা সত্যিই চমৎকার।’

যুদ্ধে অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। যা কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করার নানা প্রতীকী ছবিও ফুটে উঠেছে বিলবোর্ডে। এছাড়া, মার্কিন হামলায় নিহত শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলের জুতা, ব্যাগ, বই-খাতার প্রদর্শনীও হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের প্রতীক। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ইরানের ফুটবলারদের ছবি।

এদিকে, ইরানের প্রায় সব শহরের দেয়ালে, অলিগলি ও বড় সড়কের ব্যানার, বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে দেশটির বর্তমান ও সাবেক নেতাদের ছবি। দেশ পরিচালনায় উৎসাহ ও সাহস যোগাচ্ছে এসব প্রতীকী ছবি। যার সামনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে ইরানের নারীরাও। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মুষ্টিবদ্ধ ছবি ইরানের ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এফএস