বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এরইমধ্যে এই প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়াসুস মঙ্গলবার জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে বলেন, ‘আমি এই মহামারির বিস্তার ও গতির বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি জানান, ভাইরাসটি ইতিমধ্যে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে মঙ্গলবারই ডব্লিউএইচওর জরুরি কমিটির এক বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই কমিটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত, যারা ডব্লিউএইচও প্রধানকে কারিগরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ইবোলার বর্তমান এই প্রাদুর্ভাবটি ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইন বা ধরন দ্বারা সৃষ্ট। এই ধরনের ইবোলার কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা এখন পর্যন্ত নেই। ১৯ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই স্ট্রেনে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। মঙ্গলবারের বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা নতুন এই মহামারির জন্য টিকার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করবেন। যদিও ম্যার্ক কোম্পানির উৎপাদিত ‘এরভেবো’ নামক একটি টিকা ইবোলার জাইরস্ট্রেনের ক্ষেত্রে কার্যকর, তবে প্রাণীদেহে গবেষণায় এটি বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের বিরুদ্ধেও কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ইবোলার এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হলো কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ। অঞ্চলটি স্বর্ণ খনির কেন্দ্র হওয়ায় মানুষের ব্যাপক যাতায়াত রয়েছে, যা ভাইরাস ছড়াতে ভূমিকা রাখছে। ইতুরি প্রদেশের ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি অ্যান আনসিয়া জানান, ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামসহ (পিপিই) আরও ছয় টন চিকিৎসা সরঞ্জাম মঙ্গলবার দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে, কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত এক মার্কিন নাগরিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হচ্ছে। জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধে তারা ওই নাগরিককে নিজ দেশে চিকিৎসা দিতে রাজি হয়েছেন। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, কঙ্গোতে কর্মরত অবস্থায় ওই ব্যক্তি ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন।





