মেলোনিকে মোদির চকলেট উপহার; বিভ্রান্তিতে বাড়লো অন্য কোম্পানির শেয়ারের দাম

জর্জিয়া মেলোনিকে নরেন্দ্র মোদি চকলেট উপহার দিচ্ছেন
জর্জিয়া মেলোনিকে নরেন্দ্র মোদি চকলেট উপহার দিচ্ছেন | ছবি: সংগৃহীত
0

রোম সফরে জর্জিয়া মেলোনি-নরেন্দ্র মোদির মেলোডি মোমেন্ট এবং চকলেট উপহার দেয়ার ভিডিও ভাইরালের জেরে ভুলবশত পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ। আরেকদিকে, মোদির নরওয়ে সফরে দেশটির এক সাংবাদিকের প্রশ্ন উপেক্ষার ঘটনা ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইউরোপ সফর নিয়ে আলোচলা-সমালোচনা যেন থামছেই না। সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও সর্বশেষ ইতালি। এই সফরকালে ভারতের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। তবে ঘটনা সব আলোচনাকে ছাড়িয়ে যায়, রোম সফরে মেলোনি-মোদির মেলোডি মোমেন্ট এবং জর্জিয়াকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর চকলেট উপহার দেয়ার ভিডিও ভাইরালের ঘটনা।

রোমে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। দুই নেতা একসঙ্গে নৈশভোজ করেন এবং ঐতিহাসিক কলোসিয়াম পরিদর্শন করেন। একসঙ্গে একটি গাছ রোপণ করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলফি শেয়ার করে মোদিকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন মেলোনি। কূটনৈতিক গাম্ভীর্য ভুলে দুই রাষ্ট্রপ্রধান আশির দশকের জনপ্রিয় মেলোডি চকলেট নিয়ে রসিকতা করেন। যে ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

আরও পড়ুন:

মেলোডি রিলটি ভাইরাল হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই নামের মিল থাকাতে ভুলবশত পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ। এই পার্ল ইন্ডাস্ট্রিজ মেলোডি টফি, বিস্কিট বা স্ন্যাকসও তৈরি করে না।

আরেকদিকে, ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে পড়েন নরেন্দ্র মোদি। এই বিতর্কগুলো আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হয়।

নরওয়ের ডাগসাভিসেন পত্রিকার সাংবাদিক হেলে লিং নরওয়ের প্রেস ফ্রিডম র‍্যাংকিং ও ভারতের ১৫৭তম অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে মোদীকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেন না। মোদী এ সময় মাথা নিচু করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনা ভারত জুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে মোদির আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। যদিও পরে ভারতীয় কূটনীতিকরা এটিকে পশ্চিমা বিশ্বের অজ্ঞতা ও ভারতবিরোধী প্রচার বলে অভিহিত করেন।

এফএস