আটলান্টিক কাউন্সিলে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আল জাবের বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ জ্বালানি স্রেফ হাতেগোনা কয়েকটি সংকীর্ণ নৌপথের ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি জানান, নতুন এই পাইপলাইনটি চালু হলে ওমান উপসাগরে অবস্থিত আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।
মূলত ইরান যুদ্ধের কারণেই এই প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই এটি পুরোপুরি সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে আমিরাত একটি বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল ফুজাইরাহ বন্দরে পাঠিয়ে থাকে।
আল জাবেরের মতে, গত মার্চের শুরু থেকে ইরানের দেয়া হরমুজ অবরোধের ফলে ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এই অবরোধের কারণে ইতিমধ্যে ১০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেলের বাজার নষ্ট হয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে আরও প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ এখনই থেমে গেলেও তেলের প্রবাহ স্বাভাবিকের ৮০ শতাংশে ফিরিয়ে নিতে অন্তত চার মাস সময় লাগবে। আর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সালের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এদিকে মার্কিন জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট গত সপ্তাহে বলেছেন, যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এই প্রণালিকে এড়িয়ে বিকল্প অবকাঠামো তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে। তার মতে, ইরান ‘অবরোধের তাসটি’ কেবল একবারই খেলতে পারে।
ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি বের করার আরও অনেক পথ তৈরি হবে, যার ফলে কোনো নির্দিষ্ট দেশের পক্ষে বিশ্বকে জিম্মি করা আর সম্ভব হবে না।





