তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে হরমুজ প্রণালি নিঃশর্তভাবে পুরোপুরি খুলে দেয়াই এখন প্রধান সমাধান। লন্ডনের থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের কারণে তেলের চাহিদা বাড়বে, অথচ বাজারে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল আসছে না।’
ফাতিহ বিরল এই সংকটকে ১৯৭৩, ১৯৭৯ এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তেল উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে ইরাকের মতো দেশগুলো, যারা বাজেটের জন্য তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য নতুন করে উৎপাদনে বিনিয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। বিরল আরও বলেন, ‘জ্বালানি খাতের ওপর ভূ-রাজনীতির এত দীর্ঘ ও কালো ছায়া তিনি আগে কখনো দেখেননি।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও তাতে বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন। তবে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর পিছিয়ে যাওয়ায় আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশে পাঠাবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তারা এই মজুত উদ্ধার করবেন এবং সম্ভবত পরে তা ধ্বংস করে ফেলবেন।
তেল সংকটের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ইরান একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের এই উদ্যোগকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, সামরিক পরাজয়ের পর ইরান একটি কৃত্রিম বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা করছে, যা অবাস্তব। আইইএ প্রধান মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন বিশ্বের অনেক দেশই নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নিরাপদ আমদানির বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকবে।





