৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা বলেন, ‘বোকা অপবাদটি তিনি এতটাই ঘৃণা করেন যে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে তিনি চিকিৎসকের কাছে একটি পরীক্ষার অনুরোধ করেছিলেন।’ ট্রাম্প সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমিই হতে যাচ্ছি আপনাদের দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি। আর আপনারা কি একজন বুদ্ধিমান মানুষকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেতে চান না?’
সমাবেশটি মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প তার ‘মানসিক সক্ষমতা’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং চিকিৎসকের সঙ্গে তার কথোপকথনের দিকে চলে যান। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাকে একটি বাজে কথা বলেছে যে সে একজন বোকা মানুষ।
আমি তখন চিকিৎসককে বললাম, ‘আমাকে মেধাবী স্বৈরাচারী একনায়ক বললে আমার কিছু যায় আসে না, কিন্তু আমি বোকা শুনতে চাই না। আমি তখন জানতে চাইলাম, চিকিৎসক, আমার কী করা উচিত? এমন কোনো পরীক্ষা আছে যা আমি দিতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ স্যার, একটি কগনিটিভ পরীক্ষা (জ্ঞানীয় সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা) আছে।’
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনবার এই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং তিনবারই শতভাগ সফল হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের পরীক্ষায় এমন সাফল্য বিরল।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হেনরি ডেভিড আব্রাহাম বলেন, ‘এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনবার এই পরীক্ষা দেয়া বেশ উদ্বেগের।’ চিকিৎসকদের মতে, ট্রাম্প যে ‘মনট্রিল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট’ পরীক্ষা দেয়ার দাবি করছেন, তা মূলত ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগ শনাক্তকরণের জন্য করা হয়।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. জন গার্টনার বলেন, ট্রাম্পের মানসিক ও কগনিটিভ সক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট। তবে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের প্রশংসা করে তাকে দেশের দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ‘তীক্ষ্ণ’ ও ‘সবচেয়ে দূরদর্শী’ কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অভিহিত করেছেন।





