মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা; বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আজ (সোমবার, ১ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

লন্ডনের বাজারে আজ (সোমবার, ১ জুন) সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ২ ডলার ৭৮ সেন্ট বা ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলার ৯ সেন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ২ ডলার ৮৮ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ ডলার ২৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন শান্তি আলোচনার পর আশা করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিবে। সেই আশায় শুক্রবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছিল। কিন্তু সপ্তাহান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় সেই সম্ভাবনা ম্লান হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র গতকাল (রোববার, ৩১ মে) জানায়, সপ্তাহান্তে তারা ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে রাডার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আজ (সোমবার, ১ জুন) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, ওই ঘাঁটি ব্যবহার করেই মার্কিন বাহিনী তাদের সিরিক দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছিল।

আরও পড়ুন:

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছিলেন, গত এপ্রিলের শুরুতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিবেন। আলোচকেরা যেন যুদ্ধ বন্ধে একটি স্থায়ী সমাধান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মেটানোর আরও সময় পান, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইসরাইল একটি বড় পক্ষ এবং ইরানও বারবার হিজবুল্লাহকে এর অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞেরা তেলের বাজারে সরবরাহ সংকট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আইজি বিশ্লেষক টনি সিকামোর এক বার্তায় জানান, বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান নতুন করে মাইন পেতেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে যুদ্ধবিরতি হলেও এই পথটি পুনরায় চালু করতে অনেক দেরি হতে পারে। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান এই পথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে তেল সরবরাহ নিয়ে উৎকণ্ঠার কারণে চীনের ঝিমিয়ে পড়া শিল্পোৎপাদনের নেতিবাচক প্রভাবও ঢাকা পড়ে গেছে। গোল্ডম্যান স্যাকস গতকাল (রোববার, ৩১ মে) জানিয়েছে, চীন ও ইউরোপে তেলের চাহিদা কম থাকায় বাজারে দাম কিছুটা কমার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দামকে আরও ওপরের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এএম