গেল ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানকে কোণঠাসা করতে ভূগর্ভস্থ মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রের ভাণ্ডারকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ধসিয়ে দেয়া হয় এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের প্রবেশ পথ, করিডোর ও নজরদারি প্রযুক্তি।
পেন্টাগনের এই কৌশল শুরুতে কাজ আসলেও দমানো যায়নি বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে। বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটির নিচের ঐ মিসাইল সাইটের প্রবেশ পথ আবারও সচল করেছে আইআরজিসি। প্রচণ্ড ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেও ইরানের প্রতিরোধ শক্তিতে চিড় ধরাতে পারেনি মার্কিন সেনারা। যার প্রমাণ মিলেছে সিএনএনের প্রতিবেদনে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, আবারও পুরো দমে হামলার জন্য প্রস্তুত আছে ভূগর্ভস্থ মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ থেকে বোঝা যায়, মার্কিন বিমান হামলার কৌশলে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা আছে। ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে প্রবেশ পথ ধ্বংস করে বিশেষ কোনো লাভই হয়নি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের।
আরও পড়ুন:
কারণ, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই মিসাইল সাইটের আশেপাশের সড়ক মেরামত করেছে ইরান। উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য রাখা হয়েছে বিকল্প টানেল।
সিএনএনের দাবি, তেহরানের কাছে এখনও যে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আছে, তাতে নতুন করে পুরো দমে সংঘাত শুরু হলেও অস্ত্র সংকটে পড়বে না বিপ্লবী গার্ড কর্পস।
তাই প্রশ্ন ওঠে মিডনাইট হ্যামার, এপিক ফিউরি, অ্যাবসলিউট রিজলভ, থান্ডার ভোল্টের মতো উচ্চপর্যায়ের সামরিক অভিযান চালিয়ে আদৌ কতটা সফল যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন বারবারই মার্কিন সেনাদের সাফল্যের সাফাই দিয়ে আসলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে প্রচুর ব্যয়বহুল অভিযান চালিয়ে অর্জনের খাতায় খুব বেশি কিছু যোগ করতে পারছে না ওয়াশিংটন।
যুদ্ধের খরচ, ইরানের সস্তা ড্রোন, মার্কিন যুদ্ধ বিমানের কার্যকারিতা নিয়ে অনেক প্রতিবেদন এসেছে গেল ৩ মাসে। কিন্তু যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে দেখা যাচ্ছে অর্থনৈতিক ধাক্কার চেয়েও মার্কিন সামরিক অভিযানের সীমাবদ্ধতা এই সংঘাতে ইরানকে এগিয়ে রাখছে অনেকাংশে।




