কুয়েতি কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানবন্দরের স্থাপনা ও কূটনৈতিক মিশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলার পর কুয়েত বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। তবে কুয়েত এয়ারওয়েজ পরে টার্মিনাল ৪ থেকে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে বাহরাইনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং একটি অঘোষিত আঞ্চলিক দেশের বিমানঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুয়েত লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে চালানো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোও ব্যর্থ হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান বারবার উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশের বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। এপ্রিলের শুরুতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিষয় নিয়ে উত্তেজনা কমছে না। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বা যুদ্ধবিরতির সুযোগে ‘অতিরিক্ত সুবিধা’ নিতে দিবে না। এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দেয়া হবে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি কেবল একটি দেশের ওপর নয়, পুরো অঞ্চলের ওপর আক্রমণ।
উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজে হামলা করতে আসা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করেছে এবং হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী দাবি করেছে, তারা ‘পানায়া’ নামক একটি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
আলোচনার বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে একমত হয়েছে এবং খামেনি এই আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। তবে তেহরান যুদ্ধের সমাপ্তির পাশাপাশি তেল রাজস্বের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত চলছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও মঙ্গলবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত ছিল। বুধবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী উত্তর ইসরাইলে অনুপ্রবেশ করা একটি ‘শত্রু বিমান’ প্রতিহত করার দাবি করেছে।





