কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় ড্রোন বিস্ফোরণ; রোমানিয়া সীমান্তে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা

হামলার পর পোর্ট অব রোমেনিয়ায় ধোঁয়া উঠছে
হামলার পর পোর্ট অব রোমেনিয়ায় ধোঁয়া উঠছে | ছবি: রয়টার্স
0

রোমানিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের কনস্টান্টা বন্দরের একটি তেল টার্মিনালের কাছে শুক্রবার একটি সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ড্রোনটির সংকেত জ্যাম (ইলেকট্রনিক জ্যামিং) করে দেয়ায় এটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ওই এলাকায় চলে যায়।

ন্যাটোর পূর্ব দিকে অবস্থিত রোমানিয়ার জনবহুল এলাকায় এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় কোনো ঘটনা। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশটির সীমান্ত ছাড়িয়ে ন্যাটোভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ইলেকট্রনিক যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরে তাদের একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রাণহানি এড়াতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে রোমানিয়া কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করেছিল। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাদু মিরুতা বলেছেন, ইউক্রেনের ওই সতর্কবার্তার ফলেই সময়মতো এলাকাটি খালি করা সম্ভব হয়েছে।

রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান এই ঘটনার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ হারানো আরও তিনটি ড্রোন উপকূলের অদূরে বিস্ফোরিত হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে আর কোনো বিপদ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘রোমানিয়ার সার্বভৌম এলাকায় এই ড্রোনের অনুপ্রবেশ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের সরাসরি ফলাফল।’

এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে রোমানিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গালাতি শহরে একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুজন আহত হয়েছিলেন। যুদ্ধের শুরু থেকে এটিই ছিল কোনো ন্যাটোভুক্ত দেশের জনবহুল এলাকায় প্রথম ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনা।

তবে শুক্রবারের এই ঘটনা নিয়ে রোমানিয়ায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ড্রোনগুলো রাশিয়ার ছিল না।

এএম