চীন সীমান্ত এখন আরও কাছে, হিমালয়ে দীর্ঘতম টানেলের খনন সম্পন্ন করলো ভারত

জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখের সংযোগকারী ভারতের দীর্ঘতম সড়ক টানেল ‘জোজিলা’ পাহারায় এক আধা-সামরিক সদস্য
জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখের সংযোগকারী ভারতের দীর্ঘতম সড়ক টানেল ‘জোজিলা’ পাহারায় এক আধা-সামরিক সদস্য | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারত-চীন সীমান্তের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লাদাখ অঞ্চলে বছরব্যাপী যাতায়াত নিশ্চিত করতে এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছে ভারতীয় প্রকৌশলীরা। গত ৯ জুন হিমালয়ের সুউচ্চ জোজিলা গিরিপথের নিচে নির্মাণাধীন কৌশলগত টানেল বা সুড়ঙ্গের শেষ পর্যায়ের পাথর কেটে দুই প্রান্তের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে যেকোনো আবহাওয়াতেই চীন সীমান্ত সংলগ্ন লাদাখে সৈন্য ও রসদ পৌঁছানো সহজ হবে। স্ট্রেইট টাইমসে প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বের শীর্ষ দুই জনবহুল দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের তীব্র লড়াই দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কিছুটা গললেও ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত এলাকাটি সর্বদা উত্তেজনার উৎস হয়ে আছে। ভারতের এই নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে সমতল ভূমি থেকে দুর্গম ও বরফে ঢাকা সীমান্ত এলাকায় এখন সারা বছরই সৈন্য, রসদ ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে।

৯ জুন এই সুড়ঙ্গ সংযোগের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি বলেন, ‘এটি কেবল একটি টানেল নয়, এটি লাদাখের জন্য একটি লাইফলাইন বা জীবনরেখা।’ সুউচ্চ এই সুড়ঙ্গটি শ্রীনগর ও লাদাখের প্রধান শহর লে-র মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বর্তমানে ভারী তুষারপাতের কারণে শীতকালে এই দীর্ঘ পথটি কয়েক মাস পুরোপুরি বন্ধ থাকে, যা তুষারের নিচে ট্রাক পর্যন্ত ঢেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

১৩ দশমিক ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জোজিলা টানেলটি ৩ হাজার ৫২৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত একটি গিরিপথের নিচ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে ৩ হাজারেরও বেশি শ্রমিক এই সুড়ঙ্গ খনন কাজে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। নীতিন গড়করি রিমোটের বোতাম টিপে শেষ ধাপের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুই দিক থেকে আসা সুড়ঙ্গের সংযোগ সম্পন্ন করেন। এটি হতে যাচ্ছে ভারতের দীর্ঘতম সড়ক টানেল।

প্রকল্পের প্রকৌশলী মনমোহন সিং এএফপিকে বলেন, ‘চরম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে আমরা দিনরাত কাজ করেছি এবং কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি।’ এই প্রকল্পটি মূলত চারটি বড় টানেলের একটি নেটওয়ার্কের অংশ, যার মধ্যে ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সোনামার্গ টানেলটিও রয়েছে। ৭১ কোটি ২০ লক্ষ ডলার ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২৮ সাল নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টানেলের পাশাপাশি ভারত ৩৯০ কোটি ডলার ব্যয়ে সমতল ভূমির সঙ্গে কাশ্মীরের রেল সংযোগ স্থাপনের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চেনাব নদীর ওপর বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রেল পথের উদ্বোধন করেন। ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল পথটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর নর্দান কমান্ডের সদর দপ্তর উধমপুর থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। দুই দেশই এই হিমালয় অঞ্চলের পূর্ণ মালিকানা দাবি করে আসছে। এই অঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো কাশ্মীরের স্বাধীনতা অথবা পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

এএম