বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের এনসিপিআইয়ে যোগদান

এনসিপিআইয়ে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা
এনসিপিআইয়ে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা | ছবি: সংগৃহীত
0

এনসিপিআই দলে যোগ দিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। দেশের স্বার্থে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকেই সমর্থন দেয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া' নামক অন্য একটি দলের সঙ্গে মিশে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা। এই দলেরই সদস্য হলেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী , রচনা ব্যানার্জি, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মালা রায়, প্রসূন ব্যানার্জিরা। তারা ঠিক করেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএকে সমর্থন করবে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন তৃণমূল কংগ্রেসের আলাদা শিবির না গড়ে, অন্য দলের সঙ্গে মিশে গেলেন বিদ্রোহী সাংসদরা? মূলত আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ। মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল শিবিরকে বিগত কয়েকদিন কার্যত নাস্তানাবুদ করে রবিবার এনসিপিআই'দলের সাথে মিশে গেলেন তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ২০ জন সাংসদ।

কারণ আইন অনুযায়ী, একটি দলের ভিতরে দুটি ফ্রন্ট বা শিবির হতে পারে না। দলত্যাগ বিরোধী আইনে জড়িয়ে যেতে পারেন। ফলে আইনের এই মারপ্যাঁচ থেকে বাঁচতেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা ঝুঁকি না নিয়ে অন্য দলে মিশে গেলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপ মাস্টারস্ট্রোক ছাড়া আর কিছুই নয়।

রবিবার প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সাথে বৈঠক করেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা।এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে গিয়ে তার সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই স্পিকারকে চিঠি দিয়ে এনসিপিআইয়ের সাথে মিশে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আবেদন জানান কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা।

এনসিপিআই সদস্য হিসেবেই সংসদীয় পরিচয় পাওয়ার আর্জি জানানো হয়। দিল্লিতে স্পিকারের সাথে মিলিত হওয়ার একটি ছবিও সামনে আসে। যেখানে বিদ্রোহী সাংসদদের প্রত্যেককেই দেখা যায়। আপস

এ নিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, ‘দেশের স্বার্থে আমরা এনডিএ জোটের সাথে কাজ করব। তবে এনডিএর সাথে কাজ করলেও লোকসভায় পৃথক আসনে বসার আবেদন জানাবো।’

এনসিপিআই দলটি ত্রিপুরা ভিত্তিক রাজনৈতিক দল হলেও আসামেও যথেষ্ট পরিচিত। সেক্ষেত্রে মাত্র চার বছরের পুরনো দলের সঙ্গে মিশেই এবার পশ্চিমবঙ্গেও কাজ শুরু করে দিতে চায় তারা। দলের নতুন কার্যালয়ও গঠন করা হবে এ রাজ্যে।

ইএ