ইতিহাসে একাধিক শান্তিচুক্তির সাক্ষী জেনেভা; এবার ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা

লেক জেনেভার কোলঘেঁষে জেনেভার গ্রাঞ্জ পার্ক ও এর বিখ্যাত জেট ডি’ও ফোয়ারা
লেক জেনেভার কোলঘেঁষে জেনেভার গ্রাঞ্জ পার্ক ও এর বিখ্যাত জেট ডি’ও ফোয়ারা | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী (শুক্রবার, ১৬) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করতে যাচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের ইতি টানার পাশাপাশি আগামী ৬০ দিনের জন্য নতুন আলোচনা পর্ব শুরু হবে। পাকিস্তান এই অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

জেনেভাকে বিশ্বজুড়ে ‘শান্তির রাজধানী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, জাতিসংঘ ও বহুজাতিক সংস্থার উপস্থিতি এবং গোপন আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ—এসব কারণেই বড় বড় আন্তর্জাতিক সমঝোতা সইয়ের জন্য শহরটি বেছে নেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মার্শাল ফান্ডের গবেষক ইয়ান লেসার বলেন, ‘সুইস নিরপেক্ষতা এবং কূটনৈতিক অবকাঠামো জেনেভাকে এমন চুক্তির জন্য আদর্শ স্থান করে তুলেছে।’

ইতিহাসে জেনেভা বহু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সাক্ষী। ১৮৬৪ সালের প্রথম জেনেভা কনভেনশনের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের সুরক্ষার আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে চারটি জেনেভা কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবন্দিদের অধিকার, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সমুদ্রে আহতদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান।

১৯৫৪ সালের জেনেভা চুক্তি প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধের অবসান ঘটায় এবং ভিয়েতনামকে সাময়িকভাবে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে। ১৯৭৪ সালে ইসরাইল–সিরিয়া বিচ্ছিন্নতা চুক্তি এবং ১৯৭৫ সালের মিসর–ইসরাইল ‘সিনাই ২’ সমঝোতাও জেনেভায় স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৮৮ সালের জেনেভা চুক্তির মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান যুদ্ধের অবসান এবং সৈন্য প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়।

এছাড়া ২০০৩ সালের ‘জেনেভা ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত ইসরাইল–ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের খসড়া চুক্তিও এখানে প্রণীত হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

বর্তমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আরও আলোচনা বাকি রয়েছে। তবু আন্তর্জাতিক কূটনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে জেনেভার নাম আবারও যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে।

—আল জাজিরা প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম