ব্লুমবার্গের দাবি, এই সমঝোতায় ইরানের জন্য ব্যাপক প্রাপ্তির সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। যেমন, তেহরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে খসড়ায় কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়নি। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, সেই বিষয়েও এতে কিছু বলা হয়নি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খসড়া অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ কার্যকর হবে। এটি তেহরানের একটি প্রধান দাবি ছিল, যা নিশ্চিতভাবেই মার্কিন মিত্র ইসরাইলকে ক্ষুব্ধ করবে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য ১৪টি পয়েন্ট:
১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মিত্রদের নিয়ে ‘সব ফ্রন্টে’ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে।
২. দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অঙ্গীকার করেছে।
৩. আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা চলবে এবং প্রয়োজনে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে।
৪. হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে ‘আশপাশের এলাকা’ থেকে নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নেবে।
৫. ইরানও হরমুজ প্রণালির সব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেবে এবং এই জলপথ উন্মুক্ত করে দেবে।
৬. ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র।
৭. পর্যায়ক্রমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আইএইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব একতরফা ও দ্বিপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।
৮. ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
৯. আগামী ৬০ দিন ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এই সময়ে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে শক্তি বৃদ্ধি করবে না।
১০. ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। এর আওতায় ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহনসহ সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১১. আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ইরান তার বিদেশে আটকে থাকা সব সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
১২. পুরো শান্তি প্রক্রিয়াটি তদারকির জন্য একটি বাস্তবায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।
১৩. চুক্তির ধারা ৪, ৫, ১০ ও ১১ বাস্তবায়ন শুরু হলে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য উভয় দেশ ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো বজায় রাখবে।
১৪. চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বাধ্যতামূলক রেজল্যুশনের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।





