দুই মাসেই সামলে উঠতে চায় কাতারএনার্জি; এলএনজি বাজারে স্বস্তির আভাস

রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির পরিচালনা কেন্দ্রগুলো
রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির পরিচালনা কেন্দ্রগুলো | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার ঘোষণার পরপরই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি দ্রুত শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কাতার। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারএনার্জি তাদের ক্রেতাদের জানিয়েছে যে, জলপথটি নিরাপদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাতার প্রথম মাসেই তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে চায় এবং দুই মাসের মধ্যে তা ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী যতটা দ্রুত আশা করেছিলেন, কাতার তার চেয়েও দ্রুত এলএনজি বাজারে ফিরতে চাইছে। তবে গত মার্চ মাসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের যে ২০ শতাংশ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে, শুক্রবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ হবে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘদিনের বিরোধ ‘কয়েক দিনেই’ মিটে যাবে না। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ ইউরোপীয় মিত্ররাও এ বিষয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

গত ১৯ মার্চ ইরানের পাল্টা হামলায় রাস লাফান কমপ্লেক্সের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি জানিয়েছিলেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রায় ২৬০০ কোটি (২৬ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হতে পারে এবং মেরামত শেষ হতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ওই হামলার পর কাতার সাময়িকভাবে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল।

বিশ্বের মোট এলএনজি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে কাতার। ফলে দেশটির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। কাতারই একমাত্র বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশ যারা শুরু থেকেই ইরান যুদ্ধের নিঃশর্ত অবসানের দাবি জানিয়ে আসছিল। বর্তমানে কাতারএনার্জি তাদের উৎপাদন ইউনিটগুলো সীমিত পরিসরে চালু রেখে পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এএম