আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ড সীমান্তে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা রয়েছে। এই সমঝোতা মূলত একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে অন্তত ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এক বিবৃতিতে জি–৭ নেতারা বলেন, ‘আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা এবং ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’
সম্মেলনটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মতো প্রধান মিত্রদের কাছে তার ‘ইরান চুক্তি’ উপস্থাপনের একটি বড় সুযোগ ছিল। মিত্ররা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একমত হলেও ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে কখনোই সমর্থন করেনি। তারা আশঙ্কা করছে, সুপারপাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ সহ্য করে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তেহরান এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন একটি জোট শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খোলার পর জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির ফলে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তার খুব সামান্যই অর্জিত হয়েছে। ইরানের ঈশ্বরতান্ত্রিক সরকার এখনো ক্ষমতায় বহাল আছে, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থনও বন্ধ হয়নি। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্পকে নিজ দলের কট্টরপন্থিদের সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবাননের ভবিষ্যৎ। গত মার্চে ইসরাইল লেবাননে অভিযান শুরু করলেও হিজবুল্লাহকে এখনো পরাজিত করা যায়নি। এই যুদ্ধে অন্তত ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইরান শর্ত দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হতে হবে এবং ইসরাইলি বাহিনীকে সেখান থেকে সরতে হবে। কিন্তু ইসরাইল, যারা এই আলোচনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না।’
জি–৭ নেতারা হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের ওপরও জোর দিয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহর একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরাইলি দখলদারিত্ব শেষ না হলে ইরান স্থায়ী শান্তিতে রাজি হবে না বলেই তারা বিশ্বাস করেন। সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান শর্ত মেনে চললে প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা হবে। এছাড়া ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের খবরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।





