জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের রসিকতা, ‘আই অ্যাম দ্য বস’; ইঙ্গিত দিলেন ইউক্রেন নিয়ে সুর বদলের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স
0

ফ্রান্সের রিসোর্ট শহর এভিয়ান-লে-বাঁয়ে জি-৭ সম্মেলনে বুধবার বিশ্বনেতাদের সামনে রসিকতার ছলে ‘আই অ্যাম দ্য বস’ বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে তিনি ও জি-৭ নেতারা ইউক্রেনকে সমর্থন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তুলনামূলকভাবে একক অবস্থান দেখিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সম্মেলনের যৌথ বিবৃতি কিয়েভের জন্য সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় বাড়তি কূটনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তার মিত্ররা জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পকে বোঝাতে চেয়েছেন যে ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধ ফল দিচ্ছে এবং রাশিয়া কোনোভাবেই শান্তি চুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেয়ার অবস্থায় নেই। নেতাদের বক্তব্য ও যৌথ বিবৃতি থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, জেলেনস্কির এই যুক্তির প্রতি ট্রাম্প এখন আগের চেয়ে বেশি সহানুভূতিশীল।

তবে মস্কোকে চাপ দিয়ে আলোচনায় বসানোর কৌশল শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের আলাদা বৈঠক হবে কি না, তা পরিষ্কার ছিল না। এছাড়া ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি নিশ্চিত করার পর রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু ছাড় তুলে নিতে ওয়াশিংটন রাজি হবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত ছিল।

মঙ্গলবার ট্রাম্প জেলেনস্কি এবং অন্য জি-৭ নেতাদের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ বৈঠকের কথা বলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। তার ভাষায়, রাশিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প এখন তুলনামূলক কঠোর এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে বেশি বাস্তববাদী অবস্থান নিচ্ছেন।

সম্মেলনের আরেকটি বড় প্রেক্ষাপট ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক শান্তি চুক্তি, যেটিতে ট্রাম্প সম্মেলনের ঠিক আগে সই করেন। জি-৭ নেতারা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর বাস্তবায়নে সহায়তা করতে প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরির উদ্যোগ এবং মজুত বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন।

সম্মেলনে চীনের ওপর পশ্চিমা অর্থনীতির নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফ্রান্স চায়, জি-৭ দেশগুলো ‘গুরুত্বপূর্ণ খনিজ’ নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে একমত হোক, যাতে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা থাকতে পারে। গত বছর বিরল খনিজ থেকে তৈরি স্থায়ী চুম্বকের রপ্তানিতে চীনের কড়াকড়ি বৈশ্বিক শিল্পে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

ফরাসি প্রেসিডেন্সির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু পাঠ্য নিয়ে আলোচনা চলছে।’ আলোচনায় মূল্য সহায়তা, বাজার মানদণ্ড, ভর্তুকি, গ্যারান্টিযুক্ত ক্রয় এবং চীনের বাইরে এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায়ও রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।

জি-৭ নেতারা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্য ফেরানো এবং বিশেষ করে চীনের ‘অন্যায্য প্রতিযোগিতা’ মোকাবিলার বিষয়েও আলোচনা করেছেন। ফরাসি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ‘চীন বেশি উৎপাদন করে, যুক্তরাষ্ট্র বেশি ভোগ করে এবং ইউরোপ কম বিনিয়োগ করে।’ ইউরোপে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এবং উৎপাদন সক্ষমতার দ্রুত বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বুধবার দুপুরের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ও আলোচ্যসূচিতে ছিল। সেখানে বট ও এজেন্টের দায়বদ্ধতা এবং এআই কীভাবে সত্য ও মিথ্যা উপস্থাপন করে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। ওপেনএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সেখানে যোগ দেয়ার কথা ছিল।

এএম