ন্যাটোর দেশগুলোর ‘বিনামূল্যে সুবিধা ভোগের’ অভিযোগ আনলেন হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ | ছবি: গার্ডিয়ান
0

ইউরোপজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। ন্যাটো মিত্রদের উদ্দেশে দেয়া এক কড়া বক্তব্যে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেসব দেশ প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় করছে, সেখান থেকে সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনা হতে পারে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রাসেলসে ন্যাটো প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক বৈঠকে হেগসেথ কিছু দেশের বিরুদ্ধে ‘বিনামূল্যে সুবিধা ভোগের’ (ফ্রি রাইডিং) অভিযোগ আনেন। চলতি বসন্তে ইরানে বোমা হামলা চালানোর জন্য কয়েকটি দেশ তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেয়ায় তাদের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রতিরক্ষা সচিব ড্যান জার্ভিসসহ ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেয়া এই বক্তব্য পরে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়। ইউরোপীয় দেশগুলোকে সামরিক ব্যয় বাড়াতে চাপ দেয়ার সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। হেগসেথ বলেন, ‘এটি একটি বাস্তব পর্যালোচনা হবে। ভবিষ্যতে ন্যাটোতে আমাদের বার্ষিক চাঁদা অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ওপর নির্ভর করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটো এখন থেকে একটি দ্বিমুখী রাস্তা হবে।’

ট্রাম্প প্রশাসন চায়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজ মহাদেশের প্রতিরক্ষায় ইউরোপের ন্যাটো সদস্যরা নেতৃত্ব দিক এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা তাদের জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করুক। গত বছর হেগে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে স্পেন বাদে সব দেশ এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছিল। হেগসেথ ইঙ্গিত দেন, যেসব দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হবে, সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

ইতিমধ্যে যেসব পরিবর্তন বিবেচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ন্যাটোর জন্য নির্ধারিত ১৫০টি মার্কিন এফ-১৬ ও এফ-১৫ জেটের এক-তৃতীয়াংশ পুনঃমোতায়েন। এর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী, নজরদারি বিমান, বোমারু বিমান ও ড্রোনের সংখ্যাও কমানো হতে পারে। এই পরিবর্তন ইউরোপে রাশিয়ার সাবমেরিনের ওপর নজরদারির ন্যাটোর সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ‘হেগসেথ তার কড়া মন্তব্যের মাধ্যমে ‘‘চাপ অব্যাহত রাখার’’ চেষ্টা করছেন।’ নেদারল্যান্ডসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রুটে আরও বলেন, ‘আমি খুশি যে তিনি এটি করছেন, কারণ আমাদের একে অপরকে সত্য কথা বলা প্রয়োজন।’ গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির সামরিক ব্যয় জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশের কাছাকাছি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলে প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি পদত্যাগ করেন। হিলি চেয়েছিলেন এই হার ৩ শতাংশে উন্নীত করা হোক।

হেগসেথ বলেন, ‘ইরানে বোমা হামলার জন্য মার্কিন জেটগুলোকে ইউরোপীয় ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার বিষয়টি তিনি জার্ভিসকে জানিয়েছেন।’ যুক্তরাজ্য গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছিল। তবে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ মার্কিন বিমানবাহিনীকে তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তিনি বলেন, ‘এই ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলো আমাদের চেয়ে ইউরোপের স্বার্থকে আরও বেশি সরাসরি হুমকিতে ফেলেছিল। অথচ আমাদের অনেক মিত্র না করে দিয়েছে। এটি ছিল লজ্জাজনক।’

এএম