ক্ষমতা গ্রহণের ৮ মাসের মধ্যে তীব্র গণআন্দোলন আর জনরোষের মুখে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হিমসিম খাচ্ছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গেল ৫০ দিন ধরে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।
বিশেষ করে, জনরোষ ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ আদিবাসী সংগঠন, খনি শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বলিভিয়ান শ্রমিক কনফেডারেশনের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাতীয় সম্পদ রক্ষার বার্তা দেন তিনি।
এমন প্রেক্ষাপটে এবার আরও হার্ড লাইনে গেলেন বলিভিয়ান প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় শুক্রবার দিনগত রাতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন রদ্রিগো। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দাবি করেছেন, ৫০ দিন ধরে সড়ক অবরোধের জেরে দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে। বলিভিয়ার জনগণ এমন অবরোধের মুখে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বিশেষ করে সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিত গোষ্ঠীর অপ-তৎপরতা ঠেকানো এই জরুরি অবস্থা জারির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ। গেল মাসে একটি আইন করে, সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দিয়েছেন বলিভিয়ান প্রেসিডেন্ট।
৭ মাস আগে বলিভিয়ার ক্ষমতায় আসেন মধ্যপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ। দুই দশকের বামপন্থী শাসনের অবসানের পর এই প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মাথায় নিয়েই শুরু হয় তার শাসন। গেল নির্বাচন দেশটির জন্য ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আসলেও আবারও খেই হারিয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশটি।





