যুদ্ধের আগের দামে ফিরলো জ্বালানি তেল; সচল হচ্ছে হরমুজ প্রণালি

হরমুজ প্রণালিতে মালবাহী ট্যাংকার
হরমুজ প্রণালিতে মালবাহী ট্যাংকার | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসায় এই দরপতন ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম বাজারে এমন স্থিতিশীলতা দেখা গেল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ব্যারেল তেল বের হয়েছে। জাতিসংঘ ও ওমানের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ উদ্ধার পরিকল্পনার আওতায় গত ২৩ জুন থেকে এ পর্যন্ত ৫৭টি জাহাজ নিরাপদে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। তবে জাহাজ চলাচল বাড়লেও ইরান সেখানে নিজের আধিপত্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছে, তেহরানের নির্ধারিত রুট ছাড়া অন্য কোনো পথে জাহাজ চলাচল গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা ‘বিপজ্জনক’। ওমান ও জাতিসংঘের তৈরি নতুন রুটগুলো ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

সফরের শেষ পর্যায়ে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, কোনো দেশই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য মাশুল বা ‘টোল’ আদায়ের অধিকার রাখে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি কোনো চুক্তির গ্রহণযোগ্য শর্ত হতে পারে না।’ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাঈদিও এই অবস্থানে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থায় কোনো টোল থাকা উচিত নয়।

এদিকে নিজ দেশেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রিপাবলিকান এমপিদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সেনেটর বিল কাসিডির সঙ্গে ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। কাসিডি দাবি করেন, ইরানকে যে আর্থিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে, তা যুদ্ধের শুরুতে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তবে ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির খবর হলো, সেনেটে গভীর রাতে এক ভোটাভুটিতে ইরান যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব আটকে দিতে সক্ষম হয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা। ট্রাম্প একে ইরানের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় প্রভাব ফেলছে। রয়টার্স-ইপসোস-এর জরিপ বলছে, মাত্র ২৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন এই যুদ্ধ যুক্তিসংগত ছিল। এছাড়া ৩শ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে চুক্তিতে কোনো উল্লেখ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যেও চরম সংশয় বিরাজ করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের খবরটি উভয় পক্ষই অস্বীকার করেছে।

এএম