বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রিভস বলেন, ‘গত সোমবার কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর বার্নহামই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নাম ঘোষণা করা একমাত্র প্রার্থী।’ পরে ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্সের সম্মেলনে তিনি আরও সরাসরি বলেন, বার্নহামই ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন’। রিভসের মতে, বার্নহাম স্পষ্ট করেছেন যে তিনি বর্তমান সরকারের আর্থিক বিধির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। এই বিধির মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন সরকারি ব্যয় কর রাজস্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাতে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা।
রিভস বলেন, ‘এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। কারণ এর ফলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত হতে পারবেন যে নীতিনির্ধারণে কঠোরতা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে।’ দুর্বল জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের চাপে কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। লেবার পার্টি থেকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য তিনি একটি সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করবেন বলে জানিয়েছেন। বার্নহাম এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিজে অর্থমন্ত্রী পদে থাকতে চান কি না—এমন প্রশ্নে রিভস বলেন, ‘তিনি মন্ত্রিসভার কোনো সিদ্ধান্ত আগেভাগে অনুমান করতে চান না।’ বিষয়টি সম্পূর্ণ বার্নহামের এখতিয়ার। তবে সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে তাকে অপেক্ষাকৃত ছোট কোনো পদে পাঠানো হতে পারে। রিভস আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে প্রয়োজনে ঋণ নেয়া হতে পারে। তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের আগেই প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়—এমন অভিযোগ তুলে জন হিলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টারমার অবশ্য সেই পরিকল্পনাকে টেকসই ও ন্যায্য বলে সমর্থন করেছিলেন। র্যাচেল রিভস বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ নেয়া তার আর্থিক বিধির পরিপন্থি নয়, কারণ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বেশিরভাগই মূলত ‘পুঁজি বিনিয়োগ’।





