রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় বাল্টিক অঞ্চলে নতুন সেনাদল মোতায়েন করছে ন্যাটো

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা রাশিয়া ২০২৯ সালের মধ্যেই ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট। এই হুমকি মোকাবিলায় বাল্টিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ন্যাটো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জানিয়েছেন, ন্যাটোর এই নতুন অবস্থান মিত্র দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষার দৃঢ় সংকল্পেরই প্রমাণ। এস্তোনিয়ার ভালগা শহরে তিনি বলেন, ‘এটি ন্যাটোর একতা, প্রস্তুতি এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় আমাদের সম্মিলিত সংকল্পের একটি দৃশ্যমান ও শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।’

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে বাল্টিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় দ্বিতীয় একটি ‘আর্মি কোর’ বা সেনাদল গঠনের পরিকল্পনা করছে ন্যাটো। পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে একটি আর্মি কোরে সাধারণত ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার সৈন্য থাকে। বর্তমানে পোল্যান্ডের সজেচিনে অবস্থিত বহুজাতিক উত্তর-পূর্ব সেনাদলটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। বাল্টিক প্রতিরক্ষায় নতুন এই সেনাদল যুক্ত হলে ন্যাটো আরও দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে বলে মনে করছেন সামরিক কর্মকর্তারা।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির অব্যাহত চাপের মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে আগের চেয়ে বেশি মনোযোগী হয়েছে। ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সুরক্ষায় যথেষ্ট খরচ করছে না। রাশিয়া অবশ্য ন্যাটোর ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে ক্রিমিয়া দখল ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর এই প্রস্তুতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এএম