পৃথিবীতে এমন কিছু শহর আছে, যেখানকার সংস্কৃতি, ইতিহাস, মানুষের আবেগ-উন্মাদনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে ফুটবল। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস সেই সব শহরের একটি। তাই বিশ্বকাপ ফুটবলে রাউন্ড অব সিক্সটিনে ওঠার লড়াইয়ে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার যখন নাভিশ্বাস অবস্থা তখন চাপা উত্তেজনা আর ভক্তদের উন্মাদনায় কাঁপছে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে ৬৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা দল কেপ ভার্দের সঙ্গে যখন কোনোভাবেই লিড ধরে রাখতে পারছিল না আর্জেন্টিনা, তখন সমর্থকদের প্রাণ যায় যায়। এরপর আবার যখন অতিরিক্ত মিনিটে তৃতীয় গোল করে জয়ের কাছাকাছি পৌছে যায় স্কালোনির শিষ্যরা তখন আনন্দের উচ্ছ্বাস আর ধরে রাখতে পারেননি আলবিসেলেস্তেরা।
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের একজন বলেন, ‘এ অনুভূতি কী ভাষায় প্রকাশ করা যায়! অসাধারণ। জানি না কীভাবে এই অনুভূতি জানাবো। এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না।’
প্রতিটা মিনিটে কেপ ভার্দে আমাদের ভুগিয়েছে। দারুণ খেলা। এটা গেল আসরে ফ্রান্সের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচের চেয়েও মারাত্মক ছিলো।
আরও পড়ুন:
ফুটবল এমনই এক উন্মাদনার নাম যার কোনো দেশ কাল সীমানা থাকে না। চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিলেও তাই চলছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিজয় উল্লাস। এদিন ম্যাচ দেখতে ব্রাজিলের আইকনিক শহর সাও পাওলোর রেস্তোরাঁ আর বারে ভিড় করেন আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচ শেষে পতাকা হাতে নীল-সাদা ফ্লেয়ার নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন তারা। এখানে এমন ভক্তই এসেছেন যারা ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্তু ব্রাজিল বাদে অন্যদলের সঙ্গে খেলা পড়লে আর্জেন্টাইন শিবিরকেই সমর্থন দেন তারা।
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের একজন বলেন, ‘এত নাটকের কোনো প্রয়োজন ছিলো না। খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। কেপ ভার্দের সঙ্গে হেরে যাব!’
কাগজে কলমে শক্ত প্রতিপক্ষ না হলেও গেল বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে রীতিমতো কাবু করে ফেলেছিল কেপ ভার্দে। ম্যাচ চলার সময় ভয় পেলেও সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত টানা দ্বিতীয় শিরোপার জন্য লড়বে মেসি বাহিনী।





